মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জয়শঙ্করের ঢাকা সফর
শিষ্টাচারের আড়ালে সম্পর্কের কূটনীতি
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা প্রবল হয়ে ওঠে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও ক্রমে শীতল হতে থাকে। সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তলবের মধ্য দিয়ে তা উত্তেজনায়ও রূপ নেয়। 

এর মধ্যে গত সপ্তাহে বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে ঘটে ভিন্ন ঘটনা। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এক দিনের এ সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। 

এ ছাড়া এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে আলাপ করতেও দেখা গেছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেননি তিনি। যদিও খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। সব মিলিয়ে সম্পর্কের টানপোড়েনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার সফর নিয়ে নানা আলোচনাও হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
 
গত ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠি হয়। জানাজায় অংশ নেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। ভারতের পক্ষে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। এ ছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডিএন ধুংগেল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ বাংলাদেশে এসেছিলেন।

এর মধ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কথা হচ্ছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তার বক্তব্য নিয়েও। 

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শোকবার্তা দিয়েছেন সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাঠানো শোকবার্তাটি ভূ-রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ বার্তার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে চেয়েছে বলেও মনে করেন তারা। এ ছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না করাকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন তারা। 

যদিও জয়শঙ্করের এ সফরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা না করতে বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্ট তৌহিদ হোসেন। খালেদা জিয়ার জানাজায় জয়শঙ্করের আগমনকে ‘ইতিবাচক জেসচার’ হিসেবে উল্লেখ করছেন তিনি; তবে এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর হবে কি না তা ‘ভবিষ্যতই বলে দেবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। 

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন, তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু উনি পুরো অনুষ্ঠানেই অংশগ্রহণ করেছেন, তারপর ফেরত চলে গেছেন।’ জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কথাবার্তা হয়নি। সে রকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তার সঙ্গেও তিনি (জয়শঙ্কর) হাত মিলিয়েছেন। এটা কার্টেসি, যেটা সবাই মেনে চলে। তার সঙ্গে আমার যেটুকু কথা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যবোধ, অন্য সবার সামনে, ফলে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি সম্মান জানাতে ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ একজনের বাংলাদেশে আসা এবং দেশটির সরকারের দেওয়া শোকবার্তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত তাদের অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকে। তবে তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে এর মধ্য দিয়ে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং জয়শঙ্করের সফর দুই দেশের সম্পর্ক মেরামত করার পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইমোশন বুঝতে যে ভারত ভুল করেছিল, এটা তারই একটা ডেমন্সট্রেশন যে তারা ফাইনালি এটা বুঝতে পেরেছে।’ তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না হওয়ার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন তিনি। 

এদিকে রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের বক্তব্য, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক না থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, ভারত যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক রাখতে চায় সেটিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লি বোঝাতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার কারণ হিসেবে এ বিশ্লেষক মনে করেন, ভবিষ্যতের দিকেই নজর দিয়েছে ভারত।

মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে এমন ধারণা থেকেই হয়তো দলটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে ভারত। তিনি বলেন, ‘এখন তাদের হাতে অন্য অপশনও নাই, বিএনপিই এ মুহূর্তে ভারতের নম্বর ওয়ান অপশন।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জয়শঙ্কর   ঢাকা সফর   কূটনীতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close