মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
স্বস্তির শহরে অসহ্য ভোগান্তি
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

পর্যটনের শহর কক্সবাজার এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে যানজটের শহরে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে আটকে পড়ছেন শহরবাসী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। স্বস্তির শহরে এখন অসহ্য ভোগান্তি। এর অন্যতম কারণ টমটমের লাগামহীন দৌরাত্ম্য। শহরের একমাত্র প্রধান সড়কটি অবৈধ টমটমের দখলে চলে গেছে। আধা কিলোমিটার সড়ক পার হতে সময় লাগে ঘণ্টার বেশি। অবৈধ টমটম, শহরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, অদক্ষ চালক, বিদ্যুৎ চুরিসহ নানা কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজার। 

কয়েকদিন আগের ঘটনা, কক্সবাজারের বাজারঘাটা এলাকায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্যামে বসে আছে মানুষ। রাস্তার দুই পাশে পার্ক করে যাত্রী ওঠানামা করছে অটোরিকশা ও টমটম। রাস্তার মাঝখানে যে জায়গা রয়েছে তা দিয়ে কোনোভাবেই দুই দিকের গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারছে না। ফলে সৃষ্ট হচ্ছে জটলা, জ্যামের। 

আবার সন্ধ্যা হলেই শহরের পানবাজার সড়ক নিউমার্কেটের সামনে, এয়ারপোর্ট সড়কের আগে পালের দোকানের সামনেসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বসে কাঁচাবাজার যা কক্সবাজার প্রধান সড়কের নিত্যদিনের ঘটনা বলে জানান টমটমচালক মানিক মিয়া। আমি তার টমটমে করে অফিসে যাচ্ছিলাম। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর একরাশ অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন তিনি। 

মানিক মিয়া বললেন, আমরা গাড়ি চালাচ্ছি পৌরসভার অনুমতিক্রমে। সেই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ থেকে আমাদের গাড়িতে পরিচয়পত্র টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা অবৈধভাবে গাড়ি বা টমটম চালাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার। আবার অনেকেই আছে রোহিঙ্গা এটা দেখার কেউ নেই। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটম এখন পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এক আতঙ্কের নাম। 

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর আবার বিকাল থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত শহরের বাজারঘাটা, লালদীঘির পাড়, ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প, বার্মিজ মার্কেট, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক ও বড় বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যে কালুর দোকান ও পিটি স্কুল এলাকায়ও যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এতে করে যেমন করে মানুষ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনি ব্যাঘাত ঘটছে মানুষের নিত্য-নৈমত্তিক কর্মকাণ্ডে।

শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় কথা হয় বৃদ্ধ শাহাব মিয়ার সঙ্গে। যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট্ট এই শহরে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত টমটম আর রিকশা সংখ্যা বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সিএনজি, মাহিন্দ্রাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচলের সংখ্যা। ফলে যানজটের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে যার কারণে পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন যেন টমটমের শহরে পরিণত হয়েছে। আনাড়ি টমটম চালকদের হাতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা এবং হতাহত হচ্ছে মানুষ। 

পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের শিথিলতায় পার পেয়ে যাচ্ছেন এসব আনাড়ি টমটম চালক মালিকরা। এতে করে কক্সবাজার শহরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ টমটমের বহর। টমটম জটে প্রায় সময় রাস্তায় হাঁটা-চলাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। টমটম জটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পর্যটক ও শহরবাসী।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরে যে পরিমাণ টমটমের প্রয়োজন তার চারগুণ বেশি টমটম চলাচল করছে। ২ হাজার ৫০০ টমটমের অনুমতি থাকলেও অন্যগুলোর কোনো অনুমতি নেই কর্তৃপক্ষের। তারপরও ৫ হাজারের অধিক টমটম চলাচল করছে শহরে। অধিকাংশ টমটম চালক আনাড়ি ও অপরিপক্ব। 

দেখা গেছে, চালকদের অনেকেই সাগরে মাছ ধরার কাজ করত, সেখানে মন্দা দেখা দেওয়ায় শহরে এসে টমটম চালানো শুরু করে। আবার কেউ ছিল রিকশাচালক, এখন হয়ে গেছে টমটম চালক। অথচ কারও কোনো প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা নেই। তাই রাস্তায় দেখা যায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। 

এ ছাড়া এসব হাজার হাজার টমটম প্রতিদিন অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ চুরি করে শহরবাসীর বিড়ম্বনা বাড়ালেও যেন দেখার কেউ নেই। অধিকাংশ ফিটনেসবিহীন টমটমের লাইট জ্বলে না। রাতেরবেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও ঘটে দুর্ঘটনা। কক্সবাজার শহরে একাধিক সড়ক থাকলেও প্রধান সড়কটিই একমাত্র যানবাহন চলাচলের উপযোগী। শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দখল-বেদখলে কাহিল। তাই প্রধান সড়কেই চাপ পড়ে সব ধরনের যানবাহনের। 

কক্সবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন শহরে বড় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। তবে ছোট যানবাহন চলাচলের সুযোগে টমটম নামের ইজিবাইকগুলো দখল করে নেয় কক্সবাজার শহরের রাস্তাঘাট। ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশসম্মত হওয়ায় প্রশাসন শহরে ইজিবাইকগুলোর চলাচল পারমিট করে। কিন্তু এ সুযোগে শহরে প্রয়োজনের চারগুণ বেশি ইজিবাইক চলাচলের কারণে সৃষ্টি হয় নতুন করে টমটম জট।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, যানজটের একমাত্র কারণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে টমটমের লাইসেন্স দেওয়া আর লাইসেন্সবিহীন টমটমের বেপরোয়া চলাচল। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পানবাজার সড়ক, ভোলাবাবুর পেট্রোলপাম্প এলাকা ও বড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীরা ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা না করা।
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যানজটের চরম দুর্ভোগের বর্ণনা দেন গোলদীঘির পাড় এলাকার ব্যবসায়ী কিরণ পাল। 

তিনি বলেন, অটোরিকশা আর টমটমের শহরে পা ফেলায় যেন আজন্ম পাপ হয়েছে। শহরের লালদীঘির পাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। প্রবীণ এ বাসিন্দা আরও বলেন, গত এক মাস ধরে শুধু প্রধান সড়ক নয়, শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে যেভাবে যানজটের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে পুরো শহরটাকে যানজট কাবু করে রেখেছে। যানজটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে- লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও টমটমের ছড়াছড়ি। এদিকে লোকবল সংকটের মাঝেও ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। 

জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল সহকারী পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, ট্রাফিক পুলিশ পর্যটন শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। যেসব চালকদের কক্সবাজার পৌরসভা টমটম চালনার সুযোগ দিয়েছে তাদের পরিচয়পত্র আমাদের হাতে আছে। টমটম গাড়িতে একটি কার্ড লিখে রাখা হয়েছে যেখানে টমটম চালকের বিস্তারিত লেখা আছে। এখন তাদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আরো দক্ষ চালক হিসাবে তৈরি করা হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক ডাটা তৈরি করা হয়েছে, যারা টমটম চালক তাদের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে।

অবৈধ টমটমের বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরানকে ফোন করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্বস্তির শহর   অসহ্য ভোগান্তি   কক্সবাজার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close