এখন চোখ জুড়ানো হলুদের রাজত্ব। বিস্তীর্ণ সরিষার মাঠে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর চারপাশ। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি, আর সেই মধু সংগ্রহে দিন-রাত কাজ করছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার খামারিরা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষা চাষ ভালো হওয়ায় এবার মৌচাষেও এসেছে গতি। মাঠের পাশে সারি সারি কাঠের বাক্সে রাখা হয়েছে মৌচাক। সকাল-বিকাল খামারিরা মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের ভাষায়, সরিষা ফুলের মধু স্বাদে ও মানে ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশি।
মৌচাষী শিশির শাহ বলেন, ‘এবছরে যে মধু উৎপাদন হবে তা গত বছরের চাইতে একটু কম হবে। মধুতে যে বাজার আছে চাষীরা মোটামুটি খরচ কুলায়ে উঠতে পারবে। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি কৃষি অধিদপ্তরের সাথে কৃষকদের সমন্বয়ে যেনো মধু নীতিমালা তৈরি হয়। দেশের পরাগায়ন সেক্টরটা ডেভেলপ হলে দেশের কৃষি ফলন বৃদ্ধি পাবে। দেশ এগিয়ে যাবে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’
উত্তর বঙ্গ মৌচাষী সমিতির সভাপতি ও মৌচাষী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করি। প্রতি মৌচাক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।’
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্না ইয়াসমিন সুমি বলেন, ‘সরিষা ফুল ও মৌচাষ একে অপরের পরিপূরক। এতে একদিকে যেমন মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও ভালো হচ্ছে। ফলে কৃষক ও মৌচাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।’
তিনি আরোও বলেন, গত বছর ১ শত ৮৩ টন মধু উৎপাদন হয়েছে। আশা করছি এবছরে ২০০ টন মধু উৎপাদন করতে পারবে কৃষক। যা রেগুলার প্রাইজে বিক্রি করলে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মত বিক্রি করতে পারবে। যা কৃষকদের অর্থনৈতিকে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
কেকে/বি