পরীক্ষার হলে থমথমে নীরবতা, চোখে চোখে স্বপ্ন—আর উত্তরপত্রে ফুটে উঠছে আগামী দিনের গল্প। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এমনই আবহে অনুষ্ঠিত হলো কালাই শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে শুরু হয় এ পরীক্ষা। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির মোট ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৬৯ জন এবং মাদ্রাসা পর্যায়ে ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধার স্বাক্ষর রাখতে পরীক্ষায় বসে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা। তিনি সুষ্ঠু পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালাই শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী ও মওলানা মতিউর রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ মল্লিক ও আব্দুল মান্নান, শিক্ষা সম্পাদক তাইফুল ইসলাম ফিতা, কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বকুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ সংশ্লিষ্টরা।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে মেধার ভিত্তিতে স্কুল বিভাগ থেকে ১৮ জন এবং মাদ্রাসা বিভাগ থেকে ১৮ জন—মোট ৩৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। প্রতিটি শ্রেণি থেকে তিনজন করে মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়েছে।
কালাই শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এ বছর উপজেলার ৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে। উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ৩ হাজার, ২ হাজার ৫শ’ ও ২ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শামীম আরা বলেন,“শিক্ষাবৃত্তি শুধু অর্থ সহায়তা নয়—এটি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস। অর্থের অভাবে যেন কোনো প্রতিভা থেমে না যায়, এমন উদ্যোগ সেই পথকে এগিয়ে নেয়।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এমন ধারাবাহিক বৃত্তি আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াচ্ছে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নীরব সেই পরীক্ষার হলে আজ অনেক শিক্ষার্থীর চোখে লুকিয়ে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন—আর সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতেই কালাই শিক্ষা ফাউন্ডেশনের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস।
কেকে/এলএ