সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দল।
রোববার (৪ জানুয়ারি) মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি লিটন মাহমুদসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে, তার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তার বাস্তবায়নে সঠিক কাজ করতে হবে। বেগম জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে ছায়ার মতো থাকতে হবে সবার। খালেদা জিয়া যে স্বপ্নগুলো দেখে গেছেন, যার উৎপত্তি শুরু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করে গেছেন, তাদের তারেক রহমান যেন তা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।’
‘এখানে যত জাতীয়তাবাদী নেতা আছেন, আপনাদের দায়িত্ব সবার ঘরে বার্তা পৌঁছে দেওয়া—যতদিন পর্যন্ত তারেক রহমান আছেন, যতদিন পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী চেতনা আছে, যতদিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি আছে, ততদিন অন্য কোনো আগ্রাসী শক্তিকে ক্ষমতা নিতে দেব না। এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা স্বৈরাচারি শাসন দেখেছি। অনেক যুদ্ধ ও ত্যাগ আমাদের পার করতে হয়েছে। এখন আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পেয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম একটি স্বচ্ছ নির্বাচন, কিন্তু এখানেও গলদ রয়েছে। যারা এখন সরকারে বসে আছেন তারা নাকি বিপ্লবী সরকার চান, তারা গণতন্ত্র চান না। তারা চায় বিপ্লব। কী ধরনের বিপ্লব? রাস্তায় দিবালোকে আগুন, পত্রিকার অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড—এই ধরনের বাংলাদেশ কি আমরা দেখতে চাই?’
‘কোনো ধরনের উগ্রপন্থী শক্তিকে আমরা বাংলাদেশে শক্তভাবে দাঁড়াতে দিতে পারি না। এর বিরুদ্ধেও খালেদা জিয়া লড়াই করেছেন। অনেক বিদেশি শক্তি উগ্রপন্থীদের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং দেশের বদনাম করতে চেয়েছে। শক্ত হাতে দেশকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন খালেদা জিয়া। তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে হলে আমাদেরও একই কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সকলের ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে—কে কোন কমিটিতে আছেন, কে কার লোক—সব ভুলে যেতে হবে। একটাই চিন্তা করতে হবে, দেশটাকে সঠিক পথে নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা সবাই পদ-পদবি ভুলে গিয়ে মাঠে নেমেছিলাম—স্বৈরাচার হটাও, দেশ বাঁচাও। ঠিক একইভাবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
লিটন মাহমুদ বাবু বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনায় আজ এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব করেন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের অতিরিক্ত মহাসচিব মিজানুর রহমান, আদাবর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল সরকার, মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. লিটন, মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইরান ও মামুন, আদাবর থানার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম, মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক তাহমিনা আফরিন (নিতা), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম (অপু) প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আদাবর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক। এছাড়াও শহীদ, রনি, অপু, সোহেল, টুটুল, মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ