দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের বেপরোয়া আচরণ ও প্রকাশ্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া প্রচারণার সময়সীমা পার হলেও ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে লিফলেট বিতরণ ও শোডাউন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ২৭ ডিসেম্বরের পর সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট, ক্যাফেটেরিয়া ও একাডেমিক ভবনের করিডোরগুলোতে প্রার্থীদের অনুসারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে লিফলেট বিতরণ করছেন। অনেক স্থানে বড় বড় ফেস্টুন নিয়ে সমর্থকদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের পরিবহন সম্পাদক পদপ্রার্থী কামরুল হাসান বলেন, “ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভোটারদের মনে করিয়ে দিতেই আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। অন্য প্যানেলগুলো প্রচারণা চালাচ্ছে দেখে আমরাও লিফলেট বিতরণ করছি।”
একই চিত্র দেখা গেছে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ক্ষেত্রেও। এ প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী তানজিলের এক সমর্থক বলেন, “আমরা নিয়ম মানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে। তাই পিছিয়ে না থাকতে বাধ্য হয়েই মাঠে নামতে হয়েছে।”
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রার্থীরা যদি নির্বাচনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করেন, তাহলে নির্বাচিত হওয়ার পর তারা কতটা দায়িত্বশীল হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।” তারা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/এলএ