মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রে সম্পদ বিবরণী ও নগদ অর্থের তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটির সিনিয়র তথ্য সংগ্রহকারী মামুনুর রহমান বাবুল।
তবে, এরই মধ্যে ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ওঠেছে, ওই দুই প্রার্থী প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হয়নি। এতে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মাদারীপুর-১ আসনে ১১ জন প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এই আসনে সব প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বাকি ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
রিটানিং কর্মকর্তার কাছে দেয়া অভিযোগে জানা যায়, বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় তার মালিকানাধীন ইটভাটা ‘লাভিদ লায়েন্স ব্রিকস’-এর তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও এই ইটভাটার বিপরীতে ২০১৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত কোন ভ্যাট দেয়া হয়নি। ইটভাটা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন হলেও তিনি সেটিও করেননি। নাদিরা আক্তারের তার মনোনয়নপত্রে তার সম্পদ বিবরণী ও আয়করে এই তথ্য গোপন করার পরেও তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা দেওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই ইটভাটাটি মোশারফ হোসেন নসু নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছেন বলে জানা গেছে
অন্যদিকে বিএনপির আরেক নেতা ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু ১০১৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এ সময় তার হলফনামায় তার নগদ অর্থ ২৭ লাখ টাকার উল্লেখ করেন। এবার তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু তার মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় নগদ অর্থ ১ কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন। প্রশ্ন ওঠেছে, ৭ বছর ব্যবধানে তার নগদ ৭৩ লাখ টাকার বৃদ্ধি পেলেও আয়ের উৎস তিনি মনোনয়নপত্রে উপস্থাপন করেনি। এ ছাড়াও নগদ অর্থ বাড়লেও সেই অর্থের ওপরে কোন আয়কর বা ভ্যাট দেননি বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের বৈধ্যতা নিয়ে জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মাদারীপুর-১ আসনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই ১ জানুয়ারি হয়েছে। তখন কোন অভিযোগ আসেনি বা কেউ সরাসরিও অভিযোগ দেয়নি। ৩ জানুয়ারি একটি অভিযোগ এসেছে। সেটি ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েও দিয়েছি।’
‘তারা তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত দিবে, সেটাই আমলে নেয়া হবে। আপাতত অভিযুক্তদের মনোনয়নপত্র বৈধ রাখা হয়েছে। এর বাইরে তেমন কিছু জানা নেই আমার।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাদিরা আক্তার ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীকে একাধিকার ফোন করলেও রিসিভ করেনি।
কেকে/এমএ