কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধি ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাচ্ছেন একদল তরুণ। দুর্গম চর, কাঁচা রাস্তা ও সীমিত যোগাযোগ উপেক্ষা করে তারা গ্রাম থেকে গ্রামে, কৃষকের মাঠে, শ্রমিকের কর্মস্থলে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
প্রচারণায় তরুণরা সহজ ভাষায় বোঝাচ্ছেন—গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে সাধারণ মানুষ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন। এই উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়; বরং এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। পোস্টার, লিফলেট ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন। গণভোট সেই দূরত্ব কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম।” তার ভাষায়, “এই ভোট কোনো দল বা ব্যক্তির জন্য নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। চরাঞ্চলের মানুষের একটি ভোটও সমান মূল্যবান, এই বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই।”
অপর উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “অনেকেই গণভোট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তাই শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারণা নয় বরং মানুষের কাছে গিয়ে মুখে-মুখে বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে বসে কথা বললে তারা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। যখন তারা জানতে পারেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে সম্মতি-তখন তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।”
তরুণ উদ্যোগটি সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সুজন মাহমুদ বলেন, “এই উদ্যোগ তরুণদের হলেও এর লক্ষ্য সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা।”
তিনি আরও বলেন, “হেঁটে, ভ্যানে ও মোটরসাইকেলে করে দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে তারা এই প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা চাই মানুষ ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করুক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
প্রচারণায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক। কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করি, বড় সিদ্ধান্তের কথা অনেক সময় বুঝি না। এই তরুণরা এসে সহজ করে বুঝিয়েছে গণভোট কী। এখন মনে হচ্ছে, আমার একটি ভোটও দেশের জন্য দরকার।”
এক দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো দলের ভোট না—এই কথাটাই আমাদের ভালো লেগেছে। যদি এতে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”
এছাড়া স্থানীয় নৌকার মাঝি মজনু মিয়া বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ প্রায়ই মূলধারার আলোচনা থেকে বাদ পড়ে যায়। গণভোট সম্পর্কে আগে তেমন জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি, এতে অংশ নিলে আমাদের কথাও রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাবে।”
উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রচারণা চরাঞ্চলের মানুষকে সচেতন করে গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে জনগণের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।
কেকে/ আরআই