মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সমঝোতায় লাভ দাঁড়িপাল্লার ক্ষতির আশঙ্কায় হাতপাখা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক ছাতার নিচে আনতে কয়েক মাস ধরেই একসঙ্গে কাজ করছে- জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন। শুরুতে ঐক্য ও সমঝোতার বার্তা থাকলেও নির্বাচনের ঠিক আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা ও দূরত্ব তৈরি হয়। পরে সমঝোতার দিকেও যায় দুই দল। তবে এ টানাপোড়েনের প্রভাব ভোটের মাঠে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

সূত্র বলছে- জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই নিজের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন রাখতে আগ্রহী ছিল। বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে প্রথমে মাত্র ৩৫টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে অসন্তোষ প্রকাশ করে দলটি। পরে দর কষাকষির মধ্য দিয়ে এখন ৫০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চললেও ইসলামী আন্দোলনের দাবি- তাদের অন্তত ৮০টি আসনে শক্ত অবস্থান রয়েছে, ফলে ৫০টি আসন সন্তোষজনক নয়। ফলে এ আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এতে সমঝোতার ভেতরে দীর্ঘদিনের যে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল, তা অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে শুরুর দিকে ইসলামী আন্দোলনের যে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল- এটি এখন আর নেই বললেই চলে। গত কয়েকদিনে আসন নিয়ে দর কষাকষির ফলে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। শুরুতে ঐক্যের সঙ্গে আন্তরিকতা থাকলেও এখন কেবল ঐক্য ধরে রাখতে জামায়াত কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। এসব কারণে দলগুলোর ভেতরে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়বে ভোটের মাঠে। বিশেষ করে নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনকে অসহযোগিতা করবে জামায়াত। যেসব আসনে হাতপাখার প্রার্থী থাকবে, সেসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে করা হবে ভোট কমানোর চেষ্টা। কোথাও কোথাও হাত পাখাকে হারাতে স্থানীয় বিএনপির সঙ্গেও আঁতাত করতে পারে জামায়াতের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা।

তাদের ভাষ্য- ইসলামী আন্দোলনকে জামায়াত অসহযোগিতা করলেও, ইসলামী আন্দোলনের সব সহযোগিতা নিশ্চিত করবে দলটি। ফলে ভোটের মাঠে জামায়াত তাদের সঙ্গীদের ১০ শতাংশ সহযোগিতা করবে- এমন সম্ভাবনা না থাকলেও তারা অন্যান্য দল থেকে শতভাগ ভোট ও সহযোগিতা নিশ্চিতের সব চেষ্টা থাকবে।

অন্যদিকে একই আশঙ্কা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক কর্মী বলেন- গত কয়েকদিন শুধুমাত্র আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মী-সমর্থকরা যে নোংরামি করেছে, এতেই তাদের মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। তারা এমন কোনো জগন্য সমালোচনা নেই যে করেননি। এমনকি তাদের আইডিগুলো থেকে নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের ছবি বিকৃতি করেও পোস্ট করা হয়েছে, যা খুবই আপত্তিজনক। বাকি ভোটের মাঠে তারা কি আচরণ করবে, এটা বলার আর বাকি থাকে না। সুতরাং ভোটের মাঠে সঙ্গী হিসেবে তাদেরকে বিশ্বাস করা খুবই দুষ্কর।

এদিকে জোট সম্প্রসারণ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ পর্যায়ে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণই বর্তমান অস্বস্তির মূল কারণ। তবে উত্তেজনার মধ্যেও সংকট সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, জোট রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান, সদিচ্ছা ও সমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। ‘আমি বড়, তুমি ছোট’- এই মানসিকতা থাকলে ঐক্য টেকসই হয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদও মনে করেন, আসন ভাগাভাগিতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা গেলে সংকট থাকবে না।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের সংকটের কথা নাকচ করেছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন দল ভিন্ন সময়ে জোটে যোগ দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় নিচ্ছে মাত্র, এখানে কোনো বড় সংকট নেই।

উল্লেখ্য, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। একই আসনে উভয় দলের প্রার্থী থাকার ঘটনাও ঘটেছে, যা মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব আরও জটিল করে তুলেছে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  সমঝোতা   দাঁড়িপাল্লা   হাতপাখা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close