মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সীমান্তজুড়ে লাশের মিছিল বাড়ছেই
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। কিন্তু কার্যত তাদের প্রতিশ্রুতির উল্টোটা ঘটছে। শুধু ২০২৫ সালেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে গুলি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ বাংলাদেশ। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বছরেও থামেনি তাদের হত্যাযজ্ঞ। বছরের শুরুতে গত রোববার সীমান্তের ওপারে রবিউল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর মারা গেছেন।

নিহত রবিউল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের এজাবুর রহমানের ছেলে। গত রোববার তাকে আটক করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক কাজী মুস্তাফিজুর রহমান গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, ভারতে রবিউল ইসলামের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে তার লাশ ফেরত দেওয়া হবে। তবে লাশ ফেরতের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

বিজিবি সূত্র জানায়, রবিউল ইসলাম মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত শনিবার রাতে তিনি চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। রোববার ভোরে নদী থেকে খালি গা অবস্থায় তাকে বিএসএফ আটক করে এবং পরে বিএসএফের একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হঠাৎ খিঁচুনি দিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৫৩ বিজিবির অধিনায়ক কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার রাতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিএসএফের সদস্যরা জানান, অসুস্থ হয়ে রবিউল ইসলাম মারা গেছেন। রবিউল ইসলাম মৃগীরোগী ছিলেন, এ তথ্য তার পরিবারও বিজিবিকে জানিয়েছে।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু : ২০২৫ সালে বিএসএফ ও ভারতের নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের হত্যার সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন- এর মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের ফলে মারা যান। আগের বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২০২৪ সালে ৩০, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিলেট সীমান্ত এলাকায় ভারতের নাগরিকদের, বিশেষ করে খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে আরও অন্তত ৩৮ জন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ বা নির্যাতনের শিকার হন এবং ১৪ জনকে বিএসএফ অপহরণ করে, যাদের মধ্যে মাত্র চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী নাসির উদ্দিন এলান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সীমান্ত হত্যার ঘটনা বেড়েছে এবং বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো নেই।

এক দশকে মহেশপুর সীমান্তে ৩৬ বাংলাদেশি নিহত : ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এ উপজেলায় গত এক দশকে বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সীমান্ত এলাকায় মারধরের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৭৮ কিলোমিটার অংশ মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো উন্মুক্ত। বাংলাদেশ অংশে যাদবপুর, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী এলাকা। অপরদিকে ভারতের অংশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাসখালী এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঘাডাঙ্গা, মাইলবাড়ীয়া, স্বরূপপুর, খোসালপুর ও শ্যামকুড় সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বিভিন্ন বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায় বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ কিংবা সন্দেহের বশে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালান বলে দাবি করেন তারা।

গত ৩ নভেম্বর ভোরে উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাউলি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করেন।

গত কয়েক বছরে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলম মিয়া, নয়ন মন্ডলের তিন ছেলে ফজলুর রহমান, আবু সালেহ ও লিপু হোসেন, খোসালপুর গ্রামের সোহেল ও রাশিদুল, যাদবপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গ্রামের আরও অনেকে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মহেশপুরে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে এই দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে ছিল যশোরের ৪৯ ও চুয়াডাঙ্গার ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিজিবির একটি সূত্র জানায়, ৫৮ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের পর সীমান্ত হত্যার ঘটনা কিছুটা কমেছে। টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্র আরও জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, চোরাচালান এবং সন্ধ্যার পর শূন্যরেখায় যাতায়াত রোধে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। স্থানীয়দের গরু ছাগল সীমান্তের কাছে না চরানো এবং ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করেন। এতে সীমান্তঘেঁষা জমিতে চাষাবাদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম বলেন, সীমান্ত হত্যা ও অপরাধ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের নিয়মিত পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  সীমান্ত   লাশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close