মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপে নম্বরটির নাম লেখা ‘এসপি দিনাজপুর’ নামে। নম্বরের সঙ্গে পুলিশ সুপারের (এসপি) ছবিও যুক্ত আছে। সেই নম্বর থেকে বিএনপির দুজন নেতাকে ফোন করে জানানো হয়, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এলাকায় দুটি পুলিশ বক্স বানানো প্রয়োজন। কিছু আর্থিক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়। একপর্যায়ে পরিমাণও জানিয়ে দেওয়া হয় বিএনপি নেতাদের। সেই নেতারাও সরল বিশ্বাসে টাকা দেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রতারণার শিকার হন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া এবং জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান। প্রতারক চক্র দুজনকে একই কাজের কথা বলে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে আখতারুজ্জামান মিয়ার এক কর্মী চিরিরবন্দর থানায় এজাহার দাখিল করেছেন আর হাফিজুর রহমান মৌখিকভাবে এসপিকে অবহিত করেছেন।
ঘটনার পর অভিযান শুরু করে দিনাজপুর জেলা পুলিশ। মুঠোফোনের সূত্র ধরে এগোতে থাকে। রোববার ভোরে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশ। আটক একজন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের প্রয়াত ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে জুনাইদ খন্দকার (২৪)। অপরজন হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রয়েরবাড়ী গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে মো. হিমেল (২২)। জুনাইদকে গাজীপুর শহর থেকে এবং হিমেলকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। তারা বর্তমানে দিনাজপুর জেলা পুলিশ হেফাজতে আছেন।
আখতারুজ্জমান মিয়ার কর্মী ইমরান হোসেনের করা এজাহার থেকে জানা যায়, ১ জানুয়ারি রাতে প্রতারক চক্রের ফোন পান আখতারুজ্জামান। জানানো হয়, দুটি পুলিশ বক্স বানানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে, আইজিপি পরিদর্শনে আসবেন। ফোন পেয়ে আখতারুজ্জামান মিয়া ইমরান হোসেনকে টাকা পাঠানোর দায়িত্ব দেন। পরদিন বিকালে প্রতারক চক্রের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠান ইমরান। রাতে আবারও এক লাখ টাকার জন্য আখতারুজ্জামানকে ফোন করা হলে সন্দেহ হয় এবং চিরিরবন্দর থানায় বিষয়টি অবহিত করে প্রতারক চক্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
প্রতারণার শিকার আরেক বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে যখন ফোন আসলো, দেখলাম এসপির নম্বর থেকে, ফোন স্ক্রিনে ছবিও ভেসে উঠল এসপির। পরিচয় দিয়ে পুলিশ বক্স নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চাইল। আমার সহকারীকে বলে সিএসআর ফান্ড থেকে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ঘণ্টাখানেক পরে আবার ফোন করে বলে, কাস্টমসের কিছু মালামাল আছে স্বল্পমূল্যে কেনার সুযোগ আছে। এবার সন্দেহ হয়। সাথে সাথে ভিডিও অন করি। অমনি ফোনকলটি কেটে দেয়। পরে এসপির সাথে কথা বলে বিষয়টি অবহিত করি এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই। এরই মধ্যে শুনলাম দুজন ধরা পড়েছে।’
এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, এসপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
কেকে/বি