ফরিদপুরে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের উদ্যোগে অম্বিকা চরণ মজুমদারের ১৭৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অম্বিকা চরণ মজুমদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে স্থাপিত অম্বিকা চরণ মজুমদারের পাদদেশে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক সজল বাড়ৈ, অনুপম নন্দী, সদস্য বিপ্লব রায়, কলেজ শাখার সংগঠক কৌশিক অধিকারী, পান্না আকতার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কর্মবীর অম্বিকাচরণ মজুমদারের জীবন এখনও নতুন প্রজন্মের কাছে পাথেয় হওয়া উচিৎ। কেননা মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।
অম্বিকাচরণ এক জীবনে যে কার্য সম্পাদন করে গেছেন তা ফরিদপুর তথা গোটা দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ যুগ যুগ ধরে তার সুফল ভোগ করবে। এই কর্মবীরের জীবনী কলেজ পর্যায়ে পাঠেয় হওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন সেনদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি একাধারে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজসেবক ও গ্রন্থকার ছিলেন৷ কৃতিত্বের সাথে বি.এ পাস করার পর ১৮৭৪ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেন ৷ ১৮৭৯ সাল থেকে তিনি ফরিদপুর সদরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করেন। ১৮৮১ সালে পিপলস এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তা ভারতসভার সঙ্গে যুক্ত হয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত উক্ত এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন৷ ১৯১৬ সালে লখনউতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে তিনি সভাপতি নিযুক্ত হন৷ ১৯১৮ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ তার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি কলেজের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি নিযুক্ত হন। তিনি ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সদস্য ও পৌরসভার সভাপতি ছিলেন।
কেকে/ এমএস