চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির দুপক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে সোমবার রাতভর উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিহত জানে আলমের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি উপজেলা পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলি মিয়া হাটে আজগর আলী সিকদারের বাড়িতে পৌঁছায়। এরপর রাত ৮টায় স্থানীয় আজগর আলী জামে মসজিদ মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উপজেলার চট্টগ্রাম কাপ্তাই ও রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বন্ধ করে দেয় বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এসময় দুই মহাসড়কে চমর দুর্ভোগে আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা। সোমবার রাত দুইটার পর অবরোধকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার আবারো বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া অপর নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার অনুসারীরা খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা। গত দুইদিন টানটান উত্তেজনার মাঝে সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিত তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, “খুনের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। আমরা খুনের শনাক্তকরণে অগ্রসর হয়েছি। এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের পরিবার থেকেও এখনও মামলা করেননি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ ছিল নিয়মিত ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১০ জন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৫ জন খুন হন। বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয় ৩৪টি। ৫০ জনের বেশি মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন। জানে আলম সিকদারসহ রাউজানে গত ১৫ মাসে ১৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কেকে/এজে