লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে মাদক চোরাচালানকালে বিএসএফ-এর গুলিতে মো. রনি (২২) নামের এক যুবক পুনরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মাত্র ১৫ দিন আগেও তিনি একইভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিজেকে আত্মগোপন করেছিলেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দৈখাওয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত রনি হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে।
বিজিবি’র তথ্যমতে, তিনি হাতীবান্ধা সীমান্তের এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক বহনকারী।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) জানায়, ভোরে দৈখাওয়া বিওপি’র একটি টহলদল সীমান্ত পিলার নং ৯০২-এর নিকটবর্তী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় গুলির শব্দ শুনতে পায়। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, কয়েকজন চোরাকারবারি এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজিবি ধাওয়া করলে বাকিরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ রনিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বিজিবির তত্ত্বাবধানে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে রনি গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেও সীমান্তে বিএসএফ-এর ছররা গুলিতে আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালালে তার বাবা রনির উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন। মূলত বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি এতদিন পলাতক অবস্থায় আত্মগোপনে ছিলেন। সুস্থ হওয়ার আগেই পুনরায় মাদক চোরাচালানে লিপ্ত হতে গিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গুলিবিদ্ধ হলেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ অত্যন্ত হতাশাজনক। চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারিরা বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্তে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
তিনি আরও জানান, ‘রনির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত অপরাধ দমনে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।’
কেকে/বি