সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
সাহিত্য
শাহ আলম ডাকুয়ার সংগৃহীত উজিরপুরের লোককথা
ময়নুল ইসলাম মুসা
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরিশালের উজিরপুর এলাকার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে আছে মাটি-মানুষের মুখের ভাষা তথা আঞ্চলিক কথ্যভাষা। সংগ্রহের উদ্যোগের অভাবে কালের আবর্তে বাংলা ভাষার অনেক আঞ্চলিক শব্দ ও প্রবাদ-প্রবচন হারিয়ে যাচ্ছে। উজিরপুর উপজেলার পূর্ব বড়াকোঠা থেকে একটি প্রবাদ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রবাদটি এমন—

‘নালিশ কইর‌্যা বালিশ পাইছে
নিজের গু নিজে খাইছে’

এ সংগৃহীত প্রবাদটি শোলক ইউনিয়নের কচুয়া গ্রাম থেকেও সংগ্রহ করা হয়। কচুয়া গ্রামে মানুষের মুখে শোনা যায় একটু ভিন্নভাবে। তবে ভাব এবং প্রেক্ষাপট একই

‘নালিশ কইরা বালিশ পাইছে
গুর ছালাডা কানদে লইছে’

শব্দের অর্থ : নালিশ=অভিযোগ, কইর‌্যা=করে, বালিশ=ঘুমানোর জন্য মাথায় দেয়া তুলা ও কাপড় দিয়ে তৈরি একপ্রকার উপকরণ, গু=পায়খানা বা মল, ছালাডা=পাটের বা প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি ছালা/থলে, কানদে=কাঁধ, লইছে=লওয়া।

প্রেক্ষাপট : গ্রাম-গঞ্জে যৌক্তিক কারণ বা অযৌক্তিক কারণে একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে গ্রামের মাতবর বা মুরব্বিদের কাছে নালিশ বা অভিযোগ করে। গ্রামে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের স্বভাবই অন্যের নামে কুৎসা করা, সিনিয়রদের কাছে নালিশ করা। যে নালিশ করে তার বিষয়টি অনেক সময়ই মাতবর বা মুরব্বিরা তেমন গুরুত্ব দেয় না। কারণ তারা বুঝতে পারে অভিযোগটি তেমন গুরুত্ব বহন করে না। ঠিক এ রকম সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা (যার নামে নালিশ করা হয়) এ প্রবাদ বাক্যটি বলে থাকে।

এই প্রবাদটি অনেক সময় গ্রামের তরুণদের মধ্যেও বলতে দেখা যায়। একসময় বিকেল হলেই গ্রামের তরুণরা গ্রামের খোলা জায়গায় হাডুডু, ফুটবল, দাড়িয়াবান্ধা বা কানামাছি খেলতো। এই খেলাধুলার সময় নানা বিষয় নিয়ে টুকটাক ঝগড়া-ঝাটি হতো। তখন এক তরুণ অন্য তরুণের নামে উপস্থিত সিনিয়রদের কাছে নালিশ করতো। সিনিয়ররা তাদের দুজনকে হয়তো মিলিয়ে দিতো। ঝগড়া না করার জন্য উপদেশ দিতে। অভিযুক্তকে তেমন কোনো শাস্তি প্রদান না করায় অভিযুক্ত তরুণকে এ ধরনের বাক্য বলে ভ্যাংচি কাটতে দেখা যেতো। 

সংগ্রহকারী : শাহ আলম ডাকুয়া
সংগ্রহ স্থান : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার
পূর্ববড়াকোঠা (বোহরকাঠি) ও কচুয়া গ্রাম।
সংগ্রহকাল : ১৯৮০-১৯৮২ সাল

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  লোককথা   উজিরপুর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

সাহিত্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close