নোয়াখালীর চাটখিলে জুলাই আন্দোলনে নিহত বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজ হোসেনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে দাফনকৃত লাশটি উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানায় লুট হওয়া অস্ত্র বহন করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইমতিয়াজ। প্রথমে তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরের দিন তিনি মারা যান। ইমতিয়াজের বাবা, সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তার ছেলেকে জুলাই আন্দোলনের শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ইমতিয়াজের নাম “ভুয়া শহীদ” তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। এ আবেদনের পর সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ঘটনা অনুসন্ধান শুরু করে।
ইমতিয়াজ মারা যাওয়ার প্রায় এক বছর পর তার বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিমসহ ৫৭ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার কপি ছড়িয়ে পড়লে চাটখিলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল।
সরকারিভাবে সারাদেশে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অংশ হিসেবে বুধবার চাটখিলেও ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন।
কেকে/ আরআই