পাকিস্তানের শুরুটা দারুণ হয়েছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে স্বাগতিকরা কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, আর পাকিস্তান জয় তুলে নিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলায় আধিপত্য দেখিয়েছে সফরকারীরা, বিশেষ করে বোলিংয়ে সালমান মির্জা ও আবরার আহমেদের ঝড় এবং ব্যাটিংয়ে সাইম আইয়ুবের অর্ধশতক ম্যাচের মূল সাফল্য।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ছয় উইকেট ও ২০ বল হাতে রেখে হারিয়েছে পাকিস্তান।
টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে পূর্বে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। শ্লথ ব্যাটিংয়ে শুরু করা লঙ্কানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯ দশমিক ২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায়।
জবাবে সাইম আইয়ুবের অর্ধশতকে ভর করে ১৬ দশমিক ৪ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারী পাকিস্তান।
বল হাতে সালমান মির্জা, আবরার আহমেদ, শাদাব খানরা লঙ্কানদের ওপর তোপ দেগেছেন। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে কামিল মিসরাকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন সালমান। তিন বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে আরেক ওপেনার পাতুম নিশাঙ্কাকে ফেরান মোহাম্মদ ওয়াসিম। ১২ বলে ১২ রান করে আউট হন নিশাঙ্কা।
ঝড় তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন কুশল মেন্ডিসও। সপ্তম ওভারে কুশল যখন শাদাব খানের বলে এলবিডব্লিউ হন তখন তার দলের স্কোরকার্ডে জমা হয়েছে ৩৭ রান। ১৫ বলে ১৪ রান করেন এই উইকেটকিপার। একই ওভারের পঞ্চম বলে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও (১০ বলে ১০) বিদায় নেন। ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল লঙ্কানরা।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে চরিথ আসালাঙ্কা ও জানিথ লিয়ানাগে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন। ২৮ বলে ৩৪ রান আসে এই জুটিতে। ১৫ বলে ১৮ রান করা আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবরার।
লিয়ানাগে ও হাসারাঙ্গা ৩৮ রানের আরেকটি জুটি গড়েন। ১২ বলে ১৮ রান করা হাসারাঙ্গাকেও আউট করেন আবরার।
১৮তম ওভারে দলীয় ১২৭ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হন লিয়ানাগে। তার আগে ৩১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ১০ বলে আর মাত্র ১ রান যোগ করতেই বাকি ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। বাকিদের মধ্যে অধিনায়ক শানাকা ৯ বলে ১২ ও মাহেশ থিকসানা ১ রান করেন।
সালমান চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন। ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন আবরারও। এছাড়া শাদাব ও ওয়াসিম ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাব দিতে নেমে মাত্র ৫ দশমিক ৫ ওভারে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব। এর মধ্যে ৫১ রানই ছিল আইয়ুবের। ষষ্ঠ ওভারের এক বল বাকি থাকতে থিকসানার বলে বোল্ড হওয়ার আগে চারটি ৪ ও দুইটি ছক্কায় ইনিংস সাজান এই ওপেনার।
দলীয় ৯৪ রানের মাথায় হাসারাঙ্গার বলে আউট হন অধিনায়ক সালমান আগা। ১১ বলে ১৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারে ফারহানকে বিদায় করেন চামিরা। ১৮ বলে ২৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ফখর জামানও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১০ বলে ৫ রান করে ডি সিলভার বলে আউট হন।
তবে, জয়ে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সফরকারীদের জয় নিশ্চিত হয় শাদাব খান ও উসমান খানের জুটিতে। উসমান ১৩ বল খেলে সাত রান করলেও শাদাব ১২ বলে করেন ১৮ রান। দুই উইকেট ও মূল্যবান ১৮ রান করায় তিনিই হয়েছেন ম্যাচসেরা।
শ্রীলঙ্কার হাসারাঙ্গা, ডি সিলভা,থিকসানা ও চামিরা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
কেকে/এমএ