মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কৌশলে সংসদে যেতে মরিয়া আওয়ামী লীগ
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৭ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন স্থগিত করায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তবে কৌশলে নির্বাচনি মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগ। তফসিল প্রত্যাখ্যান করলেও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন বয়কটের মতো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। 

ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কারণ দলটির বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে কিছুসংখ্যক সংসদীয় আসন দখলে নেওয়ার চিন্তা করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। খোলস পাল্টে অন্তত ১৫-২০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়যুক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। 

একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, 

‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, নির্বাচনে বিশ্বাসী। জনমতের ওপরে আমাদের আস্থা আছে। যখন মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে, তখন আমরা শাসনক্ষমতা পেয়েছি, অথবা যাকেই মানুষ ভোট দেবেন, তারা শাসন করবেন। এই নির্বাচনেও আমরা অংশ নিতে চাই, যদি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট হয়।’

আবার দলটির প্রাক্তন সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘দল নির্বাচনে বিশ্বাস করে। আমরা চাই না নির্বাচন থেকে সরে থাকতে। কিন্তু আমাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়ে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে দিয়ে নির্বাচন থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে একটি অবৈধ সরকার। ‘আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি বলেই বয়কট করার কথা ভাবা হচ্ছে না। দলনেত্রী আমাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে রণনীতি ঠিক করে দিয়েছেন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। যা নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারে। ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে তারা ২০-২৫ আসন পেয়েও যেতে পারে। এমনটা হলে জাতীয় সংসদে দলটি তাদের প্রতিনিধি পেয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতিতে এটা তাদের এক ধরনের সুযোগ তৈরি করবে। 

তথ্য সূত্র বলছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরাসরি দলীয় ব্যানারে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় আওয়ামী লীগ বিকল্প কৌশলে ভোটের মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। দলটির সাবেক একাধিক নেতাকে ভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠানো জন্য আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে।   

খোলস পাল্টে নির্বাচনে অংশগ্রহণ : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক তিন নেতা। তারা জাতীয় পার্টি, জেপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনও করেছিলেন। তারা হচ্ছেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে তারেক শামস্ খান হিমু ও ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। এ ছাড়া কারাগারে থেকেই মাগুরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারেক শামস্ খান হিমু কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সহসভাপতি। ৫ অগাস্টের পর আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। কারাগার থেকে বের হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি দল পাল্টে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

একই আসনে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের নেতা ছিলেন। ১৩ নভেম্বর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন ইলিয়াস। এ ছাড়া কারাগারে থেকেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি। গত ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকে নজর : 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘আওয়ামী লীগের ভোটের’ দিকে নজর রাখছে সব রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই ভোট দাবি করছে বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের কখনো ভাই, কখনো বন্ধু সম্বোধন করে ভোট চাইছেন জামায়াত নেতারা। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের স্বজন বা গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড়িয়ে নিতেও দেখা গেছে জামায়াতকে। তবে আওয়ামী লীগের এখন আর ভোটব্যাংক নেই বলে দাবি করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা মনে করেন, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। এর ফলাফল গণঅভ্যুত্থান। তাই আওয়ামী লীগের আগের ভোটের হারের সঙ্গে বর্তমানকে অবস্থা মেলানো যাবে না বলে মনে করেন তারা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোট সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে- এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা যা বলছেন : 

আওয়ামী লীগের তিনজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুজন থানা পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা সকলেই বর্তমানে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলার এক নেতা বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে হিন্দু ভোট আছে ৩১ শতাংশ। সব বাদ দিয়েও ৬০ শতাংশ ভোট আছে আওয়ামী লীগের। এদের অনেকের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। এখন যদি ভোট হয় এই ৬০ শতাংশ ভোটারের মধ্যে অন্তত ৩৫ শতাংশ ভোটারকে ভোট দিতে যেতে হবে। কারণ, ভোট কেন্দ্রে না গেলে তাদের পক্ষে এলাকায় থাকা মুশকিল হয়ে যাবে। এখন যারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা যিনি দিতে পারবেন তাকেই তারা ভোট দেবেন। কিন্তু ২০-২৫ শতাংশ কট্টর সমর্থক কেন্দ্রে যাবেন না।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থকেরা এবার ভোটকেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা যদি নিরাপত্তার আশ্বাস পায় তাহলে কিন্তু তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে। আবার জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচনে থাকে তাহলে বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তারা একটা বিশেষ সুবিধা পেতে পারে। যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের আর্কষণ করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট পেতে পারেন।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কৌশল   সংসদ   আওয়ামী লীগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close