থানার কয়েকশ গজের মধ্যে দিনে-দুপুরে মোটরসাইকেল চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন? নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চুরির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলা জুড়ে ৮টি গরু ও ৫টি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত মঙ্গলবার থানার কয়েকশ গজের মধ্যে দিনের দুপুরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি দুপুরে জিরো পয়েন্ট মোড়ের শাম্মী হোটেলের সামনে থেকে জলঢাকা সরকারি কলেজের প্রভাষক সফিকুল গনির ‘পালসার ১৫০ সিসিথ মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, হোটেলের সামনে বাইকটি রেখে নাস্তা খেতে ভেতরে গেইছিলাম কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বের হয়ে দেখি বাইকটি নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে দিনে-দুপুরে যদি এভাবে চুরি হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে চোরচক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, ২৩ ডিসেম্বর বগুলাগাড়ি ৪নং ওয়ার্ডের বিধবা মিনা রানীর বাড়ি থেকে ১টি গরু, ২৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ বেরুবন্দ এলাকায় বিশাল চন্দ্র রায়ের ঘরের বেড়া কেটে বাজাজ ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, ২৫ ডিসেম্বর গ্যাস পাম্পের সামনে গরু হাটি থেকে জিয়াউল হকের বাজাজ সিটি ১০০ সিসি বাইক, ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব বালাগ্রাম চেয়ারম্যান পাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষক শামীম নেওয়াজের গোয়াল ঘরের বেড়া কেটে ৫টি দেশী গরু, ১৪ ডিসেম্বর চেরেঙ্গা ডাকুরডাঙ্গা এলাকায় সুশান্ত চন্দ্র রায়ের ২টি গরু এবং একই দিন বিকেলে আতিকুল ইসলামের ১টি মোটরসাইকেল, ১৩ ডিসেম্বর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রাজ্জাক রিংকুর মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ পুরো উপজেলাবাসী এখন চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম জানান, পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে নেই। আমরা এ পর্যন্ত চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরচক্রকে নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে পুলিশের তৎপরতার দাবি সত্ত্বেও থামছে না চুরির ঘটনা, যা জননিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
কেকে/ এমএস