মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খেত খামার
আলুর বাম্পার ফলনে বদলাতে পারে গোদাগাড়ীর অর্থনৈতিক চিত্র
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে আলুর কচি পাতা। অনুকূল আবহাওয়া আর আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগে এবার গোদাগাড়ীতে আলুর ‘বাম্পার ফলন’ আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

গত বছরের ভালো দাম এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ভাল থাকায় কৃষকদের মনে বাড়তি আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই আলু চাষ কেবল কৃষকের ভাগ্য নয়, পুরো উপজেলার অর্থনৈতিক চিত্রই পারে বদলে যেতে।

চলতি ২০২৪-২৫ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫,৮০০ হেক্টর, কিন্তু বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায়  ২১ শ’ হেক্টোর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় বেশী। বিশেষ করে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর, পাকড়ী, রিশিকুল, দেওপাড়া ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী ও কাঁকনহাট পৌর এলাকায় আলু চাষের জোয়ার দেখা দিয়েছে। 

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত গাছে মড়ক বা ধসা জাতীয় কোনো রোগবালাই দেখা দেয়নি।

কৃষি অফিস আরও জানায়, তীব্র শীত হলেও এখন পর্যন্ত আলুর কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষকের ক্ষেতে আলু ভালই আছে।

কৃষকদের মতে, গোদাগাড়ীতে উৎপাদিত আলুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে ব্যাপক। এখানকার চাষীরা মূলত ডায়মন্ড, এস্টারিক্স (লাল আলু) এবং কার্ডিনাল জাতের আলু বেশি আবাদ করেন। তবে অধিক ফলনের আশায় অনেকে বার্মা, গ্রানোলা ও কুপরিসুন্দরী জাতের আলুরও চাষ করেছেন। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এই আলু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাঠে সবুজের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মনে রয়েছে খরচের দুশ্চিন্তা। এলাকার কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতেই খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

এছাড়াও সার (এমওপি, ডিএপি, টিএসপি), কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

আলু চাষিরা অভিযোগের সুরে জানান, অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়া বাধ্য হয়ে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে।

কৃষকরা আরো জানায়, যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে এবার প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

তবে এবারও সারের দাম বৃদ্ধি এবং আকস্মিক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মড়ক দেখা দিলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উন্নত মানের সার-বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন যাতে সঠিক সময়ে সেচ ও নিড়ানি কাজ শেষ করা যায়।

কৃষিবিদরা বলছেন, গোদাগাড়ীর অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। যদি বর্তমান আবহাওয়া বজায় থাকে এবং কৃষকরা আলুর সঠিক বাজারমূল্য পায়, তাহলে এই আলু চাষ কেবল কৃষকের ভাগ্য নয়, পুরো উপজেলার অর্থনৈতিক চিত্রই বদলে দেবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close