ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০ তম আসরের ৫ম দিনে কিছুটা বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। তবে প্রতিদিনের মতো পন্যের মুল্য ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। এখন পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোন জড়িমানা বা নিন্ম মানের পন্য বিষয়ে শাস্তির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান আর দৃষ্টি নন্দন ভবন, উন্মুক্ত পরিবেশে উৎফুল্লতা প্রকাশ করেছেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।
এদিকে বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের ৫ম দিনে বৃহস্পতিবার লোকসমাগম বেড়েছে কিছুটা। বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবে দিনভর স্থানীয়দের আনাগোনা থাকলেও এ বছর স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী বা ক্রেতা হিসেবে এখনো মেলায় প্রবেশ করেননি বেশির ভাগ বাসিন্দা।
গুতিয়াবো থেকে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৫ বছর ধরে বাড়ির পাশেই মেলা হচ্ছে। এটা আমাদের রূপগঞ্জের জন্যে গর্বের বিষয়। তবে বাণিজ্যমেলায় থাকা পন্যগুলো খুবই নিন্ম মানের। দাম হাঁকা হচ্ছে বেশি। এতে মেলার শুরুতে যারা আসেন তাদের অসন্তোষ থাকে। আমারও তাই।
আমিরজান স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাশ্মির ইসলাম বলেন, মেলায় ফুটপাতের মতো হাঁকডাক করে পন্য বিক্রির বিষয়টি বিব্রতকর। তবে শিশুদের জন্যে বিনোদন স্পট, তরুণদের জন্যে উন্মুক্ত বিনোদন মঞ্চ রকমারি খেলনা ও খাবার দোকানগুলো ঘুরে ভালো লেগেছে।
মেলা ঘুরে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারের ভৌগোলিক অবস্থান ঢাকা বাইপাস সড়ক ও ৩শ ফুট সড়ক এলাকায় মেলার বাহিরে পসরা সাজিয়ে যেসব পন্য রাখা হয়েছে সেসব পন্যই ভেতরে দেখা গেছে। পাশাপাশি খাবারও নিন্ম মানের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পরিচালক ও বাণিজ্য মেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টীম কাজ করছি। প্রতিদিন রোস্টার করে সিনিয়র কর্মকর্তা মহোদয়গণ দেখাশুনা করেন। আমার ভোক্তা পর্যায় কারো অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। তবে যেহেতু এখনো মেলা জমেনি পুরোপুরি, সেহেতু প্রাথমিক ভাবে সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি। ফলে এখন পর্যন্ত কোন আইনি পদক্ষেপ বা জড়িমানা আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।
মেলা তথ্য কেন্দ্রসূত্রে জানা যায়, এবার প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, বিদেশি প্যাভিলিয়ন, জেনারেল স্টল, ফুডকোর্ট, মিনি স্টল, প্রিমিয়ার স্টল ছাড়া মূল প্যাভিলিয়নের বাইরে খোলা স্থানে আরও ১২-১৫টি ফুড স্টল রয়েছে।
এবারও বাণিজ্য মেলায় ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিদেশী ৭ টি স্টলে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। রপ্তানিতে দেশীয় পন্য উন্নত দেশের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক আর প্রদশর্নের মূল উদ্দেশ্য সফল করতে কাজ করছে।
কেকে/ এমএস