নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক।
সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সকালে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্প, রায়পুরা থানার পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে চরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টহল চলছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগরের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াবপুর, সায়দাবাদ ও পাড়াতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জালাল উদ্দিন ও তার ছেলে শুটার ইকবাল ওরফে আকরাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. জালাল উদ্দিন উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। তার ছেলে আকরাম হোসেন এলাকায় শুটার ইকবাল নামেও পরিচিত।
অভিযানকালে বাঁশগাড়ি ও পাড়াতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, রামদা, ২টি ডেগার, ৪টি ছুরি, ২টি চাপাতি, ৮টি কার্তুজ, ৫ রাউন্ড গুলি, ৩টি দেশীয় বল্লম, ২২টি পটকা, ১টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ১৫টি বাটন ফোন, ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ১টি আইফোন, ১টি মানিব্যাগ, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, গ্রেফতারকৃত জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুইটি খুনসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তার ছেলে আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একটি খুন ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, আসন্ন নির্বাচনে রায়পুরার কোনো কেন্দ্রে যেনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম না চালাতে পারে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও করা হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুজন চন্দ্র সরকার, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কেকে/ আরআই