মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দ্বৈত নাগরিকত্বে বিরোধী প্রার্থীদের ঘায়েলের চেষ্টা
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৮ এএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় এই ইস্যু সামনে এনে বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থীকে নির্বাচনি মাঠ থেকে ছিটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। 

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল হিসেবে দেখছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের যাচাই ও সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কারা টিকে থাকছেন নির্বাচনি দৌড়ে। 

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে এ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈষম্য হয়েছে। মামলার ক্ষেত্রে বিএনপির অনেকের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেও জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরও বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, যা বৈষম্য তৈরি করেছে। 

তিনি বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল কিন্তু একই নিয়মে আব্দুল আওয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তারও দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। এছাড়া মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদেরও দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। তিনি তুরস্কেরও নাগরিক। একটা মানদণ্ড থাকা উচিত, যাদের গ্রহণ করা হয়েছে সেটা কিসের ভিত্তিতে আর যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে সেটা কিসের ভিত্তিতে এটা আমার প্রশ্ন। এখানে বৈষম্য করা হয়েছে। যেসব জায়গায় বৈষম্য হয়েছে—সেখানকার ডিসিদের মানসিকতার কারণে। যারা একটা রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করেন। 

সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব অভিযোগ উঠেছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতের প্রশ্নই আসে না। সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এটা সঠিক নয়।’

সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক। যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, এহতেশাম দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সপক্ষে কোনো নথি বা রশিদ জমা দিতে পারেননি। তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আইনগতভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’ 

ডিসি সারওয়ার বলেন, সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালেক ও সিলেট-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী রাশেদ উল আলমের জমা দেওয়া কাগজগুলো সঠিক কিনা, তা যাচাই করতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। যদি পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয় যে, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তবে তারা নির্বাচিত হলেও তাদের সদস্যপদ অবৈধ হয়ে যাবে।’

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান।

জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে—বিএনপির মনোনীত একাধিক প্রার্থী বাংলাদেশের সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী যোগ্য নন, কারণ তারা একাধিক দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করছেন কিংবা বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগের সঠিক প্রমাণ দাখিল করেননি। কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হতে হলে তাকে অবশ্যই কেবল বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কেউ যদি দ্বৈত নাগরিকত্বে অধিকারী হন, তবে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ জমা দিতে হয়। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং সংবিধান ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ক্ষেত্রেই আইন সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা তা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বাচনি কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু নতুন নয় এবং যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা সবাই আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন অথবা বাংলাদেশের নাগরিকত্বই একমাত্র বৈধ নাগরিকত্ব হিসেবে বহাল রেখেছেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে মাঠে টিকতে না পেরে প্রতিপক্ষ দলগুলো প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে শক্তিশালী প্রার্থীদের বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কমিশন অভিযোগ পাওয়ার পর তা আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই করছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা ও প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে। যাচাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা খারিজ করা হবে।

ইসি সূত্র আরও জানায়, মনোনয়নপত্র যাচাই, আপিল ও শুনানি—সব প্রক্রিয়াই স্বচ্ছভাবে পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ বা প্রভাব কমিশন বিবেচনায় নিচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু নির্বাচন ঘিরে একটি সংবেদনশীল ও কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অতীতেও এই ইস্যুতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা চ্যালেঞ্জের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এবারও বিষয়টি নির্বাচনি রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের এই ধারায় শেষ পর্যন্ত ইসির সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কারা নির্বাচনি দৌড়ে টিকে থাকবেন।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব অভিযোগের ওপর প্রাথমিক শুনানি ও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর ফলে নির্বাচনি মাঠের সমীকরণে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে ওঠে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের যাচাই ও রায়ের ওপরই।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  দ্বৈত নাগরিকত্ব   বিরোধী প্রার্থী   ঘায়েলের চেষ্টা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close