মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় গভীর রাতে মহম্মদপুর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে পাল্লা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সরকারি গাছ চুরির সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পাল্লা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে গাছ কাটা অবস্থায় সরঞ্জামসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে, একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন— স্থানীয় পাল্লা গ্রামের পিকুল শেখ (৩০), বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী নুর ইসলাম (৫০) এবং আবির হোসেন (৪৮)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলিম মোল্লা এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নাগরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানের সরাসরি নির্দেশে তারা রাতের অন্ধকারে গাছ কাটছিলেন।
সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই এভাবে গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাছ কাটার সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের কথায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির নাম এই ঘটনায় উঠে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম মোল্লা এবং সভাপতি জিল্লুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এই চুরির নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কেকে/বি