| শিরোনাম: |

ছবি: প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে প্রতিপক্ষের হামলায় ইয়ানূর হোসেন (৩৫) নামের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। হামলায় ইয়ানূরের সঙ্গে থাকা আল-আমিন ও রুবেল নামের দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকারপাড়া মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ইয়ানূর, পাঁচবিবি শালায়পুর ছালাখুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় কুসুম্বা ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ও পদপ্রত্যাশী ছিলেন। জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মুক্তাদুল হক আদনান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ আইনের বিচার দাবী করেছেন।
নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী জানান, কয়েকদিন আগে কুসুম্বা ইউনিয়নের পুকুরপাড় গুচ্ছপাড়া গ্রামের মসজিদে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজ মাহফিলের টাকা আদায়ের হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে ছিলেন যুবদল নেতা ইয়ানূর হোসেন। ওয়াজ মাহফিলের হিসাব নিকাশের টাকা নিয়ে গ্রামের মোস্তফা নামে একজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এতে গ্রামের মানুষ ইয়ানূর ও মোস্তফা গ্রুপে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা হামলার ঘটনাও ঘটে। এলাকায় মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়।
নিহত ইয়ানূরের ভাই মমিনুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক গ্রুপিং এবং মসজিদের গচ্ছিত টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইয়ানূর বন্ধু আল-আমিন ও রুবেলকে নিয়ে আমিরপুর গ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পাঁচবিবি-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ঢাকারপাড়া মোড়ে প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা গুরুতর আহত হন এবং চিৎকার করেন। সড়কের পাশে থাকা গ্রামবাসী এগিয়ে এসে তাদের দ্রুত পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইয়ানূর মারা যান। গুরুতর আহত আল-আমিন ও রুবেলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান জানান, মসজিদের টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। অধিগত তদন্ত চলছে। ইয়ানূরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য তৎপর রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
কেকে/এলএ