গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরি-স্তর অবৈধভাবে কর্তন ও খনন করছে অসাধু ব্যবসা-সম্পৃক্ত চক্র।
এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বারবার প্রশাসনের জেল-জরিমানা ও অভিযান সত্ত্বেও অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির হিড়িক থামছে না।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনিম খোলা কাগজকে জানান, “গত ১৫ দিনে উপজেলায় ১০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৫টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং ৩ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ২টি স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের মাদুলী বিলে অভিযানে ৫০ হাজার টাকা, টোক ইউনিয়নের বীর উজলী গ্রামে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামে ৫০ হাজার টাকা এবং সূর্যনারায়ণপুর এলাকায় অবৈধ মাটি পরিবহনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুড়িয়াদী গ্রামে মাটি কাটারত অবস্থায় হাতেনাতে আটক ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কড়িহাতা ইউনিয়নের মাদুলী বিল এবং সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়ালে পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ মাটি উত্তোলনের দায়ে কাপাসিয়া থানায় ২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় চাঁদপুর ইউনিয়নের জালিশা গ্রাম ও বারিষাব ইউনিয়নের নয়ানগর এলাকা থেকে ২টি এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়।”
এদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মো. সোলেমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মো. সিরাজুল হকের ছেলে।
গত মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা আদায় করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ খোলা কাগজকে জানান, “ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. সোলেমান পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) ও একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।”
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে মাটি কাটা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১৩ ধারায় মাটির উপরি-স্তর কর্তন ও ভরাটের দণ্ড সম্পর্কে বলা আছে—যদি কোনো ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরি-স্তর কর্তন করেন অথবা জমির রেকর্ডধারী মালিকের বিনা অনুমতিতে জমি বালু/মাটি দ্বারা ভরাট করেন, তবে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
কেকে/এলএ