বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেরারমাঠ এলাকার সীমান্তে পরপর তিনটি বিকট শব্দের বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে চেরারমাঠ এলাকার ৪২/৪৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে মিয়ানমারের কয়েক কিলোমিটার ভেতর থেকে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। বিস্ফোরণের শব্দগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে চেরারমাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
চেরারমাঠ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. ফয়েজ বলেন, “হঠাৎ করে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। কিছুক্ষণ পর আবার শব্দ হয়, এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”
আরেক বাসিন্দা রহমান জানান, “এ ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ আগে কখনো শোনা যায়নি। নারী ও শিশুরা খুব ভয় পেয়ে যায়।”
তবে কী কারণে এসব বিস্ফোরণের শব্দ হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরকান আর্মি প্রভাব বিস্তার করেছে। একই সঙ্গে জান্তা সরকার সমর্থিত আরও দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সংঘর্ষের সূত্র ধরেই সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসতে পারে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কেকে/এলএ