মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সংকটের বৃত্তে ছাত্রদল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্রসংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম ও সংকটে নেতৃত্বে ভূমিকা রাখলেও বিগত কয়েক বছরে ধরেই ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পরও দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারছে না এ সংগঠনটি। 

পুরোনো সিন্ডিকেট ও গতানুগতিক ধারায় চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম। নেই নতুন কর্মকৌশল কিংবা কর্মসূচি। ফলে দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতেও সংগঠনটির সংকট দেখা দিয়েছে। যা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের আরো স্পষ্ট হয়েছে। ডাকসু, জাকসু, চকসু, রাকসু ও সর্বশেষ জকসু নির্বাচনের ছাত্রদল প্যানেলের ভরাডুবি দেখা গেছে। যার ফলে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে খোদ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। 

অনেকের অভিযোগ পুরোনো সিন্ডিকেট ও নতুন নেতৃত্ব তৈরি না করে গতানুগতিক পদ্ধতিতেই চলছে সংগঠনটি। অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসের নানা কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ছাত্রদল এখনো লবিং গ্রুপিংয়েই ব্যস্ত রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে সংগঠনটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সেই হিসেবে ছাত্রশিবিরকে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক মোকাবিলায় যে পরিকল্পনা নেওয়ার কথা ছিলো, সে বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও ক্যাম্পাস নেতারা অনেকটা উদাসীন। এমনকি অবাধ সুযোগে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধকাণ্ডে। যার প্রভাব দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সাম্প্রতি ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে পড়েছে। 

একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের পাতানো ফাঁদে পা ফেলে বরাবরই নিজেদের পরাজয় ডেকে আনার অভিযোগ করছেন অনেকেই। তাদের ভাষ্য,  ছাত্রশিবির বিভিন্ন ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে; যা ছাত্রদল সহসাই লোপে নেয় এবং এগুলো দিয়েই ন্যারেটিভ তৈরি করে, শিবির তাদের ফায়দা হাসিল করে। 

এদিকে নতুন নেতৃত্বে তৈরিতে ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা সামাজিকমাধ্যমে লিখেন ‘সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের হেরে যাওয়া এই দায় কার? এমন তো না যে কর্মীরা আত্মগোপনে ছিল বা কমিটি দেওয়ার মতো লোক ছিল না। উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে কেন্দ্র সব জায়গায় একই চিত্র। কয়েকজন পদধারী নেতা একটি কমিটিকে আঁকড়ে ধরে রেখে বছরের পর বছর ধরে পদপ্রত্যাশী কর্মীদের ঘুরিয়েছে। ফলে বয়স ৩০-৩৫ পেরিয়েও অনেককে ছাত্রদলই করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ছাত্রদলের এই ভরাডুবি কি হঠাৎ হয়েছে? কোনো কারণ ছাড়াই? অনেক বিশ্লেষণ হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মূল কারণ একটাই দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না দিয়ে ছাত্রদলের কর্মী উৎপাদন বন্ধ করে রাখা, আর অছাত্রদের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া। যেই ছাত্রদলের হাত ধরে বিএনপির গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল, সেই ছাত্রদলের এই অবস্থা মেনে নেওয়ার নয়।’

সময় এখনো শেষ হয়নি। ছাত্রদলকে ছাত্রদের হাতে ফিরিয়ে দিন অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেন ‘১-২ বছরের কমিটি দিয়ে ১০-১৫ বছর চালিয়ে কর্মী উৎপাদন বন্ধ করে দেবেন না।’

অন্যদিকে নির্বাচনে ছাত্রদলের এ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ গণমাধ্যম বলেন, ‘একটা গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলও স্টেকহোল্ডার ছিল, শিবিরও স্টেকহোল্ডার ছিল। ছাত্রদল তার প্রচারণার মধ্য দিয়ে ওই ধারণাটা ছাত্রদের মধ্যে দিতে পারেনি যে তারা ডিফারেন্ট হবে। ছাত্রলীগ থেকে তারা ভিন্নতর হবে- এই বোধটা আসলে ছাত্রদের মধ্যে ছড়াতে পারেনি। এটাই হলো ছাত্রদের ছাত্রদলের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দলীয় গ্রুপিংয়ের বিষয়টি তো অবশ্যই আছে। আপনি যদি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে দেখবেন যে, ওই ইমেজটা ছাত্রদল তৈরি করতে পারেনি যে তারা আলাদা হবে। যে কারণে সাধারণ ভোটাররা মনে করছে প্যাটার্ন তো একই হবে, এদের দিয়ে লাভ নেই। শিবিরের এ বিজয়ের পেছনে তাদের একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা, সমন্বয় ছিল বলে মনে হয়। সে কারণেই তারা প্রত্যেকটা জায়গায় ছাত্রদলের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরিকল্পনার জায়গায়, স্ট্র্যাটেজির জায়গায়। এমনকি তারা যেসব প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, তারা ছাত্রদলের চেয়ে বেটার ছিল।’
 
ছাত্রদলের সামনের দিনের রাজনীতি কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের মাইন্ডসেটটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এখনকার রাজনীতি, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ছাত্ররা কী চায়, তাদের সেই চাওয়া-পাওয়া বোঝার চেষ্টা করতে হবে।’
  
যদিও কিছুদিন আগে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্র রাজনীতির সংস্কার শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা এই সংস্কার কাজ করব। ছাত্রলীগ আগে দেশের সব শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ও ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে। র‌্যাগিং ও হল দখলের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে মেরেছে, নির্যাতন করেছে। আমরা সেই রাজনীতি আর চাই না। 

গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি চালু করতে চাচ্ছি। শিক্ষাঙ্গনে সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতি আমাদের লক্ষ্য। হল দখল কিংবা র‌্যাগিং বন্ধে ছাত্রদল সচেতনতা তৈরি করতে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সাধারণ ছাত্রদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখনো তারা ছাত্র সংগঠনের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে আমাদের মাঝে অবিশ্বাস সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। শান্তিকামী ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে ছাত্রলীগের এজেন্ট ঢুকিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে অস্থির করতে চাচ্ছে। ছাত্রদল তা হতে দেবে না। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সংকট   বৃত্ত   ছাত্রদল   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close