মাদারীপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ চলাকালীন নকল ও প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে আছমত আলী খান পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে ৪০১ নম্বর কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ইমাম হোসেন পরীক্ষার্থী অমৃত মণ্ডল (২৮)-এর কাছে একটি কমলা রঙের বাটন মোবাইল ফোন দেখতে পান।
পরবর্তীতে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোবাইলটি পরীক্ষা করে তাতে উত্তরপত্র সংক্রান্ত মেসেজ পান। এরপর মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ডিপিইওর প্রতিনিধি মুহাম্মদ শাহাদাত হুসাইন বাদী হয়ে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ৯(খ)/১৩ ধারায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, চরমুগুরিয়া মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর আগে দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে প্রধান গেটের সামনে পরীক্ষার্থী লাভলী আক্তার (২৬)-কে হাতে লেখা একটি শিট পড়তে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে শিটটি জব্দ করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, শিটে লেখা উত্তরগুলো পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাভলী আক্তারকে আটক করে এবং হাতে লেখা শিটটি জব্দ করে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমারত হোসেন বাদী হয়ে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ৪(খ)/১৩ ধারায় মাদারীপুর সদর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। নকল ও প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এলএ