লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার দহগ্রাম সরকারি স্কুল মাঠে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় সীমান্তবর্তী শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
রংপুর ব্যাটালিয়ন ৫১ বিজিবির দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সর্বদা দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই সকল কাজের ধারাবাহিকতায় চলমান শৈতপ্রবাহের তীব্র শীতে মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর দিকনির্দেশনায় উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুর কর্তৃক অধীনস্থ ৪টি সেক্টর এবং ১৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শীতার্ত অসহায় মানুষ ও শিশুদের মাঝে মোট ৩ হাজার ৫৩0টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
উক্ত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় আঙ্গরপোতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সীমান্তবর্তী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল এলাকায় বসবাসরত ৫০০টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রচণ্ড শীতে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় একই সাথে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল এলাকার সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩ শতাধিক জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির উত্তর পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের পিএসসি, জি+, রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান, বিজিওএম, পিএসসি, জি, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সেলিম আলদীন, বিজিওএম, পিএসসি এবং ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার, সেক্টর সদর দপ্তর, রংপুরসহ স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি স্থানীয় জনগণের সার্বিক কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও সুসংহতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।”
কেকে/এলএ