মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কেশবপুরে অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম আপডেট: ১০.০১.২০২৬ ৬:১৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের কেশবপুরে প্রায় দেড় যুগ ধরে সেচপাম্প দিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ হয়ে আসছে। চলতি বছর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ উপজেলার প্রধান নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনে শহরে মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিলের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে উপজেলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্ধশত বিলে এবার বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অনেক বিলে এক থেকে দেড় ফুট পানি থাকার পরও সেচ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ উপজেলার বর্ষার অতিরিক্ত পানি বুড়িভদ্রা, হরিহর, আপারভদ্রা হয়ে হরি নদীতে নিষ্কাশন হয়। পলি জমে নদী ও খালের তলদেশ উঁচু হওয়ায় বিলগুলিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যার কারণে কৃষকরা প্রায় দেড় যুগ ধরে বিলের পানি সেচপাম্প দিয়ে নিষ্কাশন করে বছরের একমাত্র ফসল বোরো আবাদ করতে হয়। কৃষক ও ঘের মালিকদের যৌথ অর্থায়নে এ সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

এদিকে, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হরিনদীসহ প্রধান নদ-নদী ও খালের ৮১.৫০০ কিলোমিটার পুনঃখননে সরকার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর এই খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

কৃষকরা জানান, বোরো আবাদের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ পৌষের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনের শর্তে জমি ঘের মালিকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঘের মালিকরা সেচপাম্প দিয়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশন করতে মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেচ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। যার কারণে উপজেলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্ধশত বিলের পানি এখনও সম্পূর্ণ নিষ্কাশন হয়নি। কোনো কোনো বিলে এক থেকে দেড় ফুট পানি থাকা অবস্থায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ওইসব বিলে কৃষকদের বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ঘের মালিক মেজবাহউদ্দীন মিল্টন জানান, উপজেলার পশ্চিম সারুটিয়ার বরুনার বিলে তার ৪০০ বিঘা জমির ২টি মাছের ঘের রয়েছে। ২৫–২৬টি মেশিন দিয়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন চলছিল। নির্ধারিত সময়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব ছিল। কিন্তু পাশের কিছু কুচক্রিমহল বুড়িভদ্রা খালের বাধ কেটে দেয়ায় তার ঘের আবার পানিতে তলিয়ে যায়। খালের বাধ সংস্কার করে পুনরায় ঘেরের পানি নিষ্কাশন চলছিল। ৩০ পৌষের ৭ দিন বাকি থাকা অবস্থায় সেচ বন্ধ করা হয়েছে। ঘেরে এক থেকে দেড় ফুট পানি আছে। যার কারণে বিলের শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করতে পারছেন না। মিল্টনের ঘের ছাড়া ওই অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত ঘেরের একই অবস্থা।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪,৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫,৭০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ৮,৪২৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান আবাদের আশা করা হচ্ছে। এবছর পানি কম হওয়ার কারণে আশাকরা হয়েছিল ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আরও ২–৩ দিন সেচ কার্যক্রম চালানোর জন্য তিনি ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি দপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কেশবপুর   অর্ধশত বিল   বোরো আবাদ অনিশ্চিত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close