মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কলিম উল্লাহ কলেজে অনুষ্ঠিত একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুনর্মিলনীর নামে সেখানে সমাবর্তনের প্রায় সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়েছে, যা কলেজ পর্যায়ের কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার (১০ ডিসেম্বর) একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তবে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী এটিকে তাদের সমাবর্তন বলে দাবি করেন। ব্যানারে ‘প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান’ লেখা থাকলেও প্রায় সব শিক্ষার্থীকে সমাবর্তনের মতো গাউন ও টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এমনকি শিক্ষার্থীদের গায়ে জড়ানো উত্তরীয়তেও ‘কনভোকেশন’ লেখা ছিল।
শুধু সনদপত্র হাতে তুলে দেওয়া ছাড়া সমাবর্তনের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কলেজ পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে সমাবর্তন আয়োজন করে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী জানা গেছে, শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। সমাবর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হয় এবং রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম বলেন, “সমাবর্তন হয়েছে।” তবে সমাবর্তন আয়োজনের অনুমতি ছিল কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খালেদা নাহার ও উপাধ্যক্ষ জালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন রিসিভ করা হয়নি।
গজারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনার মাধ্যমে প্রথম জানলাম। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। তবে এতটুকু বলতে পারি কলেজ পর্যায়ের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমাবর্তন আয়োজন করতে পারেনা।”
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “তারা আমাকে জানিয়েছিল এটি একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। কিন্তু পরবর্তীতে ছবিতে দেখতে পেলাম অনেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনের মত গাউন পড়ে এসেছে। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।”
কেকে/ আরআই