গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কাছে মোবাইল ফোন চেয়ে না পেয়ে অভিমান করে মহনা (১১) নামের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওনা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মহনা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার মহিউদ্দিন ড্রাইভারের মেয়ে। তারা নগর হাওনা গ্রামের মনু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মহনা তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন চেয়েছিল। বাবা মহিউদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং মেয়েকে পিঠা তৈরির জন্য চাল ভাঙাতে দোকানে যেতে বলেন। এতে মহনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে বাবাকে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ঘরের ভেতর আড়ার সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও দেখা যায় কিশোরীটি মারা গেছে।
নিহতের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, সকালে মেয়েটা আমার কাছে মোবাইল চেয়েছিল। আমি তাকে চাল ভাঙাতে যেতে বলায় সে বলেছিল মোবাইল না দিলে আত্মহত্যা করবে। কিন্তু সে যে সত্যি সত্যি এমন কাজ করে ফেলবে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
মাত্র ১১ বছর বয়সী একটি শিশুর এমন তুচ্ছ কারণে আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে ভিড় করেন। এবং পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা পুলিশ এসে তদন্ত করছে।
পরিবারের বরাতে শ্রীপুর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা খোলা কাগজকে জানান, শিশুটি বাবার কাছে মোবাইল ফোন চেয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/ এমএস