‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর বন্দিদের পুনর্বাসনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারে। এসব উদ্যোগের ফলে বন্দিরা মুক্তজীবনে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পথ পাচ্ছেন।
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি অসংখ্য স্টল ও প্যাভিলিয়নের ভিড়ের মধ্যেও আলাদা নজর কেড়েছে কারাবন্দীদের হাতে তৈরি পণ্যের প্যাভিলিয়ন। লাল দালানের আদলে নির্মিত এই প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নান্দনিক হস্তশিল্প, যা পছন্দ হলেই কিনতে পারছেন দর্শনার্থীরা।
কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার ও মেলায় দায়িত্বরত কারাপণ্য প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তা ইয়াসমিন জাহান জুঁই বলেন, বন্দিদের মুক্তজীবনে কর্মসহায়ক পরিবেশ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কারাগারভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করা হয়। এতে অর্জিত আয়ের অর্ধেক সরকারি কোষাগারে জমা হয় এবং বাকি অংশ সরাসরি বন্দি শ্রমিকরা পান।
মেলায় আসা দর্শনার্থী মহাখালীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খুরশিদ জাহান বলেন, লাল দালানের নান্দনিক নকশা দেখে প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করেছি। ভেতরে এসে দেখি গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য, নিখুঁত ফিনিশিং ও ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব শিল্পকর্ম মেলার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন পণ্যে পরিণত হয়েছে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, কাঠ, বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন শিল্পকর্মে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। ডেমরা খলাপাড়া থেকে আসা দর্শনার্থী কানিশা সুলতানা বলেন, গত বছর এখান থেকে একটি চেয়ার কিনেছিলাম। এখনো সেটি নতুনের মতো আছে, আত্মীয়-স্বজনরা দেখলে প্রশংসা করেন।
দর্শনার্থীদের মতে, এসব হস্তশিল্প শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, টেকসই মানের দিক থেকেও আলাদা। অনেকেই বলছেন, প্রায় বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।
ডেপুটি জেলার মোহাইমিন বলেন, কারাবন্দীদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প একবার দেখলেই পছন্দ হয়ে যায়। কাজের ফিনিশিং চমৎকার এবং মান অত্যন্ত ভালো। বাণিজ্য মেলার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন পণ্যের তালিকায় এগুলো শীর্ষে রয়েছে।
কেকে/ এমএস