যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ‘বেনাপোল কমিউটার (৫৩ বেতনা) ট্রেন’ সার্ভিসে সরকারি থেকে বেসরকারি পর্যায়ে টিকিট বিক্রির হিড়িক। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট বেনাপোল-খুলনা ও মোংলা রুটে ফুলের রাজ্য হিসেবে খ্যাত গদখালি এলাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনটিতে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে টিকিট বিক্রি বেশি হতে দেখা গেছে। এসব রুটে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলকারী ট্রেনটি সরকার কর্তৃক বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই যাত্রীদের মধ্যে টিকিট বিক্রিতে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রেলওয়ে স্টেশনে এ দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর বেনাপোল-খুলনা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করে। তখনকার সময়ে সর্বপ্রথম ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে স্টেশন মাস্টার হিসেবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন নড়াইল জেলার সিঙ্গিয়া বড়বাড়ি গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান। এরপর ২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরবর্তী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান অবনতি, চোরাচালান ও দখলদারিত্ব বাড়ায় ২০১৩ সালে ফের ট্রেনটি সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়। এই রুটটি বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ মে দরপত্র খোলা হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তিন বছরের জন্য ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’কে টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ট্রেনের ভাড়া পূর্বের নির্ধারিত মূল্যেই বহাল রেখে তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা থেকে ফিরে ঝিকরগাছা স্টেশনে নামা যাত্রীদের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে অন্য দিনের তুলনায় রোববার বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত সকাল সাতটা ৪৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ট্রেনের ঝিকরগাছা থেকে বেনাপোলগামী যাত্রীদের জন্য যেখানে নিত্যদিনে ৩-৪টি টিকিট বিক্রি হয়। কিন্তু রোববার প্রায় ৪০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে অন্যান্য দিনের তুলনায় টিকিট কালেকশনও বেড়েছে। একই সঙ্গে সকাল ৯টা ৫০মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনের ঝিকরগাছা থেকে মোংলাগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও টিকিট বিক্রির সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও মোংলাগামী যাত্রীদের জন্য গড়ে ৫০-৬০টি টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় শতাধিকের উপরে।
এছাড়াও স্টেশনের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকলেও টিকিট যাচাই ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন করেতে দেখা গেছে। ফলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম দিনেই স্টেশনে বাড়তি তদারকি ছিলো চোখের পড়ার মতন।
ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, ‘রেলওয়ের দপ্তারাদেশের ভিত্তিতে রোববার থেকে বেসরকারি সংস্থা ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ ট্রেনটির টিকিট ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। আর আমরা আমাদের প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যক্রম পরিচালানাসহ বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের তদারকি করবো।’
কেকে/এমএ