পৌষ মাসের শেষে ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো কনকনে ঠাণ্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের জেলার মানুষ। তীব্র শীত থেকে রেহাই পেতে সিরাজগঞ্জে স্বপ্ল আয়ের মানুষেরা পুরনো গরম কাপড় কিনতে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড় করছেন। এতে শহরের মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে পুরনো কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে বেচাকেনা জমে ওঠেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি হলেও মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে, কয়েক বছরের চেয়ে জেলায় শীত মৌসুমে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা ভালোই শুরু হয়েছে। এ বছর বিক্রি ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সরেজমিন দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে কিনে নিচ্ছেন গরম পোশাক। এসব দোকানে তরুণ ক্রেতা বেশি। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেটে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ক্রেতারা জানান, শীতের শুরুতে কেনা পোশাক তীব্র শীতে কোনো কাজে লাগছে না। তাই তারা আবার গরম কাপড় কিনতে ছুটছেন। এ সুযোগে বিক্রেতারাও দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুণ। দুই-তিন সপ্তাহ আগেও যে পোশাক ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তার দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা।
সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেটে গরম কাপড়ের ক্রেতা সাগর হোসেন বলেন, ‘ছেলে-মেয়ের জন্য শীতের জামা কিনতে এসেছি। তবে শীত বেশি হওয়ায় দাম একটু বেশি। গত সপ্তাহে যে পোশাক ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ তার দাম ৫৫০-৬০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন। পরে দামাদামি করে ৪৫০ টাকায় নিয়েছি।’
এসএস রোডে পুরনো ভ্রাম্যমাণ দোকানে শীতবস্ত্র কিনতে আসা রিকশা চালক সুজাব হোসেন (৬৫) বলেন, ‘বড় মার্কেটে গরম কাপরের দাম অনেক। শুনেছি হকার্স মার্কেট থেকে ৩০০ টাকায় বিদেশি পোশাক পাওয়া যায়। তাই হকার্স মার্কেট থেকে সন্তান, স্ত্রী ও আমার জন্য এক হাজার টাকায় গরম কাপড় কিনেছি।’
বিক্রেতা পলাশ শেখ বলেন, ‘সব বয়সী মানুষের শীতের পোশাক সোয়েটার ও জ্যাকেট আমরা বিক্রি করি। অপেক্ষাকৃত কম দামে একটি জ্যাকেট বা সোয়েটার ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগে। তাছাড়া ক্রেতার শরীরে পোশাক যখন মানানসই হয়, তখন ক্রেতার মুখের হাসিই আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।’
শীত এলেই পুরোনো গরম কাপড়ের কদর বাড়ে। এবার গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি, তবে তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আরেক বিক্রেতা সিদ্দিক আলী বলেন, ‘বেশি বিক্রি হয় তরুণদের জ্যাকেট। যেসব নতুন জ্যাকেট বাজারে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেই একই পুরোনো পোশাক আমরা ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি করি। এ জন্য আমাদের তরুণ ক্রেতা বেশি।’
এসব পোশাক তারা চট্টগ্রাম থেকে কিনে আনেন। যা কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান থেকে বাংলাদেশে আসে বলে তিনি জানান।
পাইকারি ব্যবসায়ী বাবলু শেখ বলেন, ‘শার্ট, প্যান্ট ও গেঞ্জিসহ নানা পোশাক সারা বছর বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হয় বড় বাজার এলাকায়। তবে ঝুঁকি ও উচ্ছেদ আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসায় করতে হচ্ছে। হকার্স মার্কেটটি পুরোদমে চালু হলে ব্যবসায়ের আরও প্রসার ঘটবে।’
সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সমিতির আওতায় ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পুরোনো পোশাক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার পুরোনো কাপড় বিক্রি হবে আশা তাদের।’
তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় গত ৩ জানুয়ারি সকালে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই থেকে যমুনা পাড়ের জেলার ৯টি উপজেলায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো চাহিদার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া বয়ছে। এই সময় শীতজনিত রোগ, সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে।’
কেকে/এমএ