কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বাজারের নুরু ফার্মেসির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ করেন দুবাইপ্রবাসী ইফতেখার আহমেদ সুজন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইফতেখার আহমেদ সুজন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। পরিচিত কেউ দুবাই গেলে তিনি নিয়মিতভাবে দেশ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ আনিয়ে ব্যবহার করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তার বাবা মেঘনার অনেক রোগীর পরিচিত মানিকারচর বাজারের নুরু ফার্মেসি থেকে ‘নাপ্রো-এ প্লাস ৩৭৫’ নামের একটি ওষুধ কিনতে যান।
ওষুধ কেনার সময় তার বাবা ফার্মেসির কর্মচারীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ওষুধের মেয়াদ যেন পর্যাপ্ত থাকে এবং তা বিদেশে পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী কর্মচারী একটি বক্সের ভেতরে ওষুধ সরবরাহ করেন। ওই বক্সে ছিল এক পাতা পূর্ণ ওষুধ এবং ৬+৪ মিলিয়ে মোট ১০টি কাটা পাতা ট্যাবলেট।
পরবর্তীতে বাসায় গিয়ে ওষুধের মেয়াদ যাচাই করে দেখা যায়, এর মধ্যে ৬টি ট্যাবলেটের মেয়াদ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসেই শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধই তার বাবার কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানার পর ইফতেখার আহমেদ সুজন তার বাবাকে পুনরায় নুরু ফার্মেসিতে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে পাঠান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ফার্মেসির মালিক নুরু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেননি এবং কোনো ধরনের আশ্বাসও দেননি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, মেঘনার সাধারণ মানুষ যেন নুরু ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার সময় অবশ্যই মেয়াদ যাচাই করেন। সে কারণেই তিনি ট্যাবলেটের পাতা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার বাবার সঙ্গে যে প্রতারণা করা হয়েছে, একই ধরনের প্রতারণার শিকার অন্যরাও হতে পারেন বলে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অবস্থান করলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
এ বিষয়ে দোকানদার নুরুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামরুন নাহার কলি জানান, ভুক্তভোগী লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট বিধি ও আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এলএ