কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ও কাঙ্খিত সংস্কার বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এখন গণভোটের মাধ্যমে সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ এসেছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ ও রাজশাহী কলেজে নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত গণভোট ও নির্বাচন ২০২৬ প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘গণভোট নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গণভোটে ৪টি প্রশ্নের মাধ্যমে মোট ১১-১২টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে- একজন ব্যক্তি টানা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধনে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুনরায় গণভোট আয়োজন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের সুযোগ সীমিত করার মতো বিষয়গুলোও গণভোটের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
তথ্য ও সম্প্রচার সচিব বলেন, ‘এসব সংস্কারের লিখিত দলিল হলো জুলাই সনদ। ন্যায্যতা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পরিবার ও সমাজে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা চাইলে পরিবর্তন সম্ভব।’ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে গণভোটের তাৎপর্য বোঝাতে নারীদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ‘গণভোট প্রচারে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে ৬৪ জেলা, ৪৯৫ উপজেলা ও ৪ হাজার ৫৯৮ ইউনিয়নে নিবিড় কার্যক্রম চলছে।’ এ কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে ইউনিক এবং শতাব্দীর সেরা নির্বাচন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সকল ভোটারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ অধ্যাপক সানোয়ার জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ।
রাজশাহী কলেজের পৃথক অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/বি