চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ী চন্দ্রপুর এলাকার ৭০টি পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ওই এলাকার পরেশ চন্দ্র রায় নামে এক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ী চন্দ্রপুর বিলের মুখে মূল রাস্তা থেকে বসতবাড়িতে যাওয়ার জন্য এলাকাবাসীর দেওয়া জমিতে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। বিগত প্রায় চার যুগ ধরে এই রাস্তা দিয়ে নামুড়ী চন্দ্রপুর এলাকার ৭০টি পরিবার নিয়মিত চলাচল করে আসছে। ওই এলাকায় রয়েছে বসতবাড়ি, একটি কালীমন্দির, একটি শ্মশানঘাট এবং সরকারি ‘নামুড়ী বিল’ নামে একটি বিশাল বিল। এই রাস্তা দিয়েই এলাকাবাসী বিভিন্ন হাট-বাজারে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদরাসায় যাওয়া এবং কৃষকদের মাঠের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করে আসছিল।
এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সোমবার (১২ জানুয়ারি) পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ভেলাবাড়ী নয়ারহাট এলাকার ইউনুস আলী নামের এক ধনাঢ্য কৃষক পরিবারগুলো যেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে রাস্তার ওপর একটি ঘর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে পরিবারগুলো একপ্রকার গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘর নির্মাণে বাধা দিলে ইউনুস আলী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকাবাসীকে তাড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার জমিতে আমি ঘর তুলেছি, তোদের কিছু করার থাকলে করিস’—এই বলে সবাইকে তাড়িয়ে দেন।
রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের লোকজন এবং শিশুরা স্কুলে যেতে পারছি না। অবিলম্বে রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনুস আলী বলেন, এই রাস্তা কোনো সরকারি বা রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নয়। রাস্তার পাশেই আমার একাধিক জমি রয়েছে, শস্য আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে রাস্তা তৈরি করেছিলাম। ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত। আমি মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেইনি; রাস্তার পাশে ব্যবসার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
কেকে/এমএস