মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দীর্ঘ হচ্ছে এলপিজি সংকট
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্নাবান্না হচ্ছে না। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে সংকট ততই বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস কখন পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপও নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। এই সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাসও নেই। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। সরকার বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তারা নিজেরাই এলপিজি আমদানি করবে। তবে বাস্তবতা হলো- এলপিজি আমদানি, বোতলজাত ও বিপণনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা সরকারের হাতে নেই। ফলে চাইলেই রাতারাতি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকারের দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এলপিজির বাজার বিপণনে প্রায় ৯৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি খাতের হাতে। মাত্র ২ শতাংশ রয়েছে সরকারি কোম্পানির দখলে। সরকার সরাসরি এলপিজি আমদানি করে না। দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে প্রাপ্ত এলপিজি বোতলজাত করে সরবরাহ করা হয়।

এলপি গ্যাস সংকটের সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এলপিজির ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। সরকারের কাছে মাত্র ২ শতাংশ। আমাদের পক্ষে যা যা করা দরকার ছিল, সবই আমরা করেছি। এখন একটাই সমাধান-সরকারকেই এলপিজি আমদানি শুরু করতে হবে। ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার এলপিজি আমদানি করলেও তাতে দ্রুত সংকটের সমাধান হবে না। কারণ, আমদানির পর এলপিজি বোতলজাত করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সময় ও বড় পরিসরের অবকাঠামো প্রয়োজন।

এদিকে এলপিজির সরবরাহ সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে শীতকালে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। গত ডিসেম্বরে সব মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টন। এরপরও সংকট কমেনি। পাড়ামহল্লার বেশির ভাগ এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রয়েছে। সুযোগ বুঝে বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দাম। 

রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা আজাদ রহমান বলেন, আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সকালে কিছুক্ষণের জন্য পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বাসায় লাইনের গ্যাস নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে পাশের এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে রান্না করে আনছেন। বাজারে প্রতিটি ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকারের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়ে গেছে।

মাছ বিক্রেতা রফিকুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ রান্না কমিয়ে দেওয়ায় কয়েক দিন ধরে সবজি বিক্রিও খুব কম হচ্ছে।

এলপিজি সরবরাহে সংকটের চাপ পড়েছে পরিবহন খাত ও রেস্তোরাঁ খাতও। এই পরিস্থিতিতে এলপি গ্যাসসহ এই খাতের অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সব রেস্তোরাঁ বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা। 

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। ফলে অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। 

এ সময় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘‘কর্মজীবী ও স্বল্প-মধ্যম আয়ের মানুষ রেস্তোরাঁ-নির্ভর হওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকেরা। ফলে অনেক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ছেন। রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা না গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হবে।’’

তবে জ্বালানি সরবরাহ চ্যালেঞ্জের, এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, দেশজুড়ে এলপি গ্যাস নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি সরবরাহ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের, এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘জ্বালানির ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে।’’

সমাধান প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, “এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করতে হবে সরকারের পক্ষ থেকে। প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে।” তিনি বলেন, “দামের চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সংকট। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকলেই ভোগান্তি হবেই।”

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  এলপিজি সংকট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close