মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
অভিমান ভুলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বিদ্রোহীদের
শহীদ আহমদ ইমন
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৯ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

নির্বাচনি লড়াইয়ে বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিশেষ করে যেসব আসন বিএনপি তাদের মিত্র ও সমমনা দলগুলোকে ছেড়ে দিয়েছিল, সেসব আসনে দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপির প্রার্থীরা। এতে বিএনপি ও তার মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি ও হতাশা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। তাতেও সমাধান মিলছিল না। অবেশেষে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অভিমান ভুলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা। 

গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন জেলার দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে কথা বলছেন তারেক রহমান। দলের প্রার্থীর স্বার্থে নির্বাচনে সহযোগিতার অনুরোধ করে বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেন দলের চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিভিন্ন জেলার বেশ কজন বিদ্রোহী প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ছেড়ে দেওয়া ১৭টি আসনের মধ্যে চারটি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেন। 

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির হাইকমান্ডের অনুরোধে ইতোমধ্যে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আর যারা প্রত্যাহার করেননি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের (২০ জানুয়ারি) মধ্যে তারাও প্রত্যাহার করবেন। এরপরও যদি প্রত্যাহার না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল। এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৪সহ শতাধিক আসনে এখনো বিএনপির ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীরা’ নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এসব প্রার্থীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কথা বলছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এর মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে সাকির পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। এ বিষয়ে আব্দুল খালেক বলেন, চেয়ারম্যান যখন ডেকেছেন, তাকে সম্মান করতেই হবে। একইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারেক রহমান। পরে এক ভিডিওবার্তায় নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি। 

এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপি প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। 

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট ও সদর আংশিক) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি। 

এদিকে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া সাবেক এমপি শেখ সুজাতের সঙ্গে ঢাকায় কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ সুজাতও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের হাইকমান্ডের অনুরোধে তিনিও ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।   

এখনো অনড় যেসব প্রার্থী : 

এখনো অনড় অবস্থানে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন জুনায়েদ আল হাবিব। তবে ভোটের মাঠ থেকে সরছেন না রুমিন ফারহানা। গত রোববার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাইফুল আলম নীরব। এ সাক্ষাতের পরও তিনি নির্বাচনি মাঠে আছেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জমিয়ত নেতা মাওলানা মনির হোসেন কাসেমিকে। ওই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা শাহ আলম ও গিয়াসউদ্দিন। বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, তারা দুজনই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন। 

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দেখব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আমরা তাদের বোঝাচ্ছি। এমনকি বিএনপি চেয়ারম্যানও তাদের বোঝাচ্ছেন। তারা তো আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মী। আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান রয়েছে। তবে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে, দল তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অভিমান ভুলে   প্রার্থিতা প্রত্যাহার   বিদ্রোহী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close