ইচ্ছা ছিলো জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবে কুয়েত প্রবাসী জামাল মাতুব্বর (৪০)। পরিবারের জন্য কিনেছিলেন স্বর্নালংকার। বাড়িতে এসে করবেন একটি বিল্ডিং। সেজন্য বাড়ির আঙ্গিনায় বিল্ডিংয়ের জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে। এইসব স্বপ্ন আর হলো না পূরণ। লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন জামাল। পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে দুর্ত্তরা।
জামাল কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউজে চাকরি করতেন। এই ফার্ম হাউজেই গত পহেলা জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জামালের। আজ বুধবার সকাল ১১ টায় তার লাশ দাফন করা হয় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে।
জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক।
জানা যায়, পরিবারের সুখের জন্য ৮ বছর আগে পাড়ি জমান কুয়েতে। সেখানেই থাকতেন জামাল মাতুব্বর। তিন বছর আগে ছুটিতে দেশে আসেন জামাল। এরপর ২৬ সালের জানুয়ারী মাসে দেশে আসার কথা ছিলো এই প্রবাসী যুবকের। তবে বাড়ি ফিরলো লাশ হয়ে।
জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার নিয়ে গেছে। টাকার জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমাদের ধারণা যারা হত্যা করেছে তারা আমার স্বামীর কাছের মানুষ ছিলো। আমি কুয়েতে বাংলাদেশী এম্বাসীর কাছে এর সঠিক বিচার চাই। তারা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেয়। এ কথা বলেই কাকোলি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, আমি ডিসেম্বর মাসে বাড়ি এসেছি ছুটিতে। জামাল যেখানে থাকতো, সেখান থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমি থাকি। জামাল আর কিছুদিন পর বাড়ি আসবে ছুটিতে। পহেলা জানুয়ারি ফোন পেলাম জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ওই দেশের ফায়ার সার্ভিস এসে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে কুয়েতের পুলিশের মাধ্যমে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়, সেখানে ময়নাতদন্তের কাজ শেষে কুয়েতে বাংলাদেশী এম্বাসীর মাধ্যমে মঙ্গলবার জামালের লাশ দেশে আসে। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন জামাল লাশ বাড়িতে এনে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এলাকাবাসী কুয়েতে বাংলাদেশী এম্বাসীর কর্মকর্তাদের কাছে জামালের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ট বিচারের আশা করছি।
কেকে/ এমএস