বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে কাস্টমস কতৃক নির্ধারিত এলাকার ২ থেকে ৩ কিলোমিটার বাহিরে ভারতীয় এবং ভূটানের পাথর বোঝাই ট্রাক আনলোড ও দীর্ঘ সময় অবস্থান করাকে নিয়ে নির্বাচন পূর্ববর্তী নিরাপত্তা জনিত আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর সুত্রে জানা যায় ভারত ও ভূটান থেকে আমদানিকৃত পাথর বোঝাই এসব ট্রাক ছাড় করতে ও আনলোড করতে অধিকাংশ সময় রাত হয়ে যায়। অনেকে আশঙ্কা করছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অস্থির করতে অবৈধ ও সন্দেহজনক দ্রব্য সামগ্রী এসব ট্রাকে করে এবং পাথরের ভিতরে লুকিয়ে দেশে প্রবেশ করানো হতে পারে।
অন্যদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্কানার নাথাকায় এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাস্টমস নির্ধারিত এলাকার দুই তিন কিলোমিটার বাহিরে আমদানিকৃত পাথর বোঝাই ১৮ ও ২০ চাক্কার বড়বড় ট্রাক নিয়ে এসে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করা অস্বাভাবিক মনে হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পাথরের ট্রাকের আড়ালে কী আসছে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। নির্বাচন সামনে রেখে আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য পাওয়া না গেলেও ভারতীয় ট্রাকে সীসা, মাদক, কসমেটিক, ঔষধ, কাপড় উদ্ধারের একাধিকবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ তল্লাশি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ট্রাক থাকলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
গত সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সরে-জমিনে বুড়িমারী স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, কাস্টমস নির্ধারিত এলাকার ২/৩ কিলো বাহিরে বুড়িমারী ঘুন্টি এলাকা, বুড়িমারী মেডিকেল এলাকা, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ইসলামপুর পর্যন্ত কয়েশ পাথর ক্রাসিং সাইডে ৪০ থেকে ৫০ টি ভারতীয় পাথর বোঝাই ট্রাক অবস্থান করছে। কাস্টমস কতৃক নির্ধারিত এলাকার বাহিরে এসকল পাথর ক্রসিং সাইডে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ভারতীয় ও ভুটানের পাথর বোঝাই ট্রাক কোনো রকম নজরদারি ছাড়াই আনলোড হচ্ছে। কখনও কখনও এসকল ট্রাক আনলোড করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে অনেক রাত হয়ে যায়।
বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্থলবন্দর নির্ধারিত সীমানার বাহিরে ভারতীয় ও ভুটানের পাথর বোঝাই ট্রাক না নেওয়ার জন্য বলা হলেও ব্যবসায়ীরা জায়গা সংকুলান না হওয়ার অজুহাতে তা মানছেন না এবং লেবার সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পাথর আনলোড করতে করতে রাত করে ফেলছেন।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, আমি নতুন এসেছি বিষয়টি আমার জানা নেই। ‘স্থলবন্দর নির্ধারিত সীমানার বাইরে ভারতীয় ও ভুটানের পাথরের ট্রাক প্রবেশের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের শৈথিল্যতা মানা হবে না।’
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুড়িমারী স্থলবন্দরে কাস্টমস, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম নির্বাচনকালীন সময়ে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বুড়িমারী স্থলবন্দরের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
কেকে/ এমএস