বরিশাল জেলা তথা দক্ষিণবাংলার প্রাচীন জনপদ উজিরপুর উপজেলা। উজিরপুরের ‘উচিত কথা’ বলতে উজিরপুর উপজেলা ও এর আশপাশে বসবাসরত গ্রাম্য মানুষের কথ্যভাষার উপমা-উৎপ্রেক্ষাকে বুঝায়। এই অঞ্চলের নদীমাতৃক জীবন, বাওয়ালি-জেলেদের জীবন, লোকগীতি (ভাটিয়ালি, সারি), পুঁথি, ধাঁধা, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন এবং বিশেষ আঞ্চলিক উপভাষার (বরিশালি) মাধ্যমে প্রকাশিত জনজীবনের ঐতিহ্য ও গল্পকে বোঝায়, যা মূলত মৌখিকভাবে প্রচলিত এবং লোকসাহিত্য, লোকগান ও লোকাচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
উজিরপুরে মানুষেরা কথায় কথায় বিভিন্ন উপমা-উৎপ্রেক্ষা দিয়ে কথ্য ভাষায় কথা বলে থাকে। যা তাদের আঞ্চলিক লোকাচার বা উচিত কথা বলে পরিচিতি পেয়েছে। উজিরপুর থেকে সংগৃহীত এ লোকাচারগুলো (উচিত কথা) বরিশাল বিভাগের অন্য জেলা ও উপজেলায়ও অবিকল থাকতে পারে। তবে উজিরপুরবাসী তাদের আঞ্চলিক ভাষার কথাগুলো যেভাবে প্রকাশ করে সেভাবেই অবিকল সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে।
উজিরপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগৃহীত একটি উচিত কথা
১. বান্দোর বুড়া অইলেও গাছ বাওয়া ভোলে না (মুন্সির তালুক)
২. বান্দোর বুইড়্যা অইলেও গাছে ওডা ভোলে না (দত্তসার)
৩. বান্দোর বুড়া অইলেও গাছ বাওয়া ছাড়ে না (কাজিরা)
৪. বান্দোর বুইড়া অইলেও গাছ বাওয়া ভোলে না (নারায়ণপুর)
এখানে বান্দোর=বানর, অইলে=হলে, বাওয়া=গাছে ওঠা, বুড়া/বুইড়্যা/বুইড়া= বৃদ্ধ, ওডা=ওঠা/উঠা। এই উচিত কথাটি ৪টি এলাকায় একটু ভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করে ব্যবহার বা উচ্চারিত হচ্ছে। তবে মূল অর্থে কোনো পার্থক্য হচ্ছে না। যেমন কেউ বৃদ্ধকে বলছে, কেউ বুইড়া আবার কেউ বুইড়্যা বা বুড়া বলছে মুখের উচ্চারণে। কিন্তু অর্থ একই বৃদ্ধ বয়সকে বুঝানো হয়েছে।
ব্যাখ্যা : উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা এই উচিত কথাটির মূল প্রচলিত অর্থ হলো মানুষ কখনোই তার পুরানো অভ্যাস ত্যাগ করতে পারে না বা ভুলতে পারে না। যৌবনকালে যে চুরি করতেন তিনি বয়স হলেও মাঝে মাঝে চুরি করার ঝুঁকি নেয়। যে ছোটবেলা থেকে বেয়াদব সে বুড়ো হলেও বেয়াদবি করার অভ্যাসটা তার থেকে যায়। আবার দেখা যায়- যে ব্যক্তি ঝগড়ুটে চরিত্রের সে বুড়ো হলেও অন্যের সাথে ঝগড়া করে থাকে।
সংগ্রাহক ও সম্পাদনা : শাহ আলম ডাকুয়া
(০১৯৮৫-১৮৪৬৯৮)
সংগ্রহ সময়কাল : ১৯৮০ সাল
সংগ্রহের স্থান : বরিশালের উজিরপুর উপজেলা
কেকে/ এমএস