শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে বসতঘরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত নয়ন মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো তিনজন।
গতকাল রাত নয়টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নয়ন মোল্লা মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে একই গ্রামের একটি নতুন ঘরে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয় নবীন হোসেনকে, তিনিও পরদিন মারা যান। নয়ন মোল্লা প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকলেও মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, “চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, নিহতরা হলেন সোহান বেপারী, নবীন হোসেন ও নয়ন মোল্লা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিলাসপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্যের কারণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিস্ফোরণ ঘটেছে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশের চাচাতো ভাইয়ের ঘরে, নিহত ও আহতরা চেয়ারম্যানের সমর্থক।
জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বিস্ফোরক আইনে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ককটেল, সরঞ্জাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে।
কেকে/ আরআই