মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
দেশজুড়ে
হাতীবান্ধায় ওসিকে ফাঁসানোর চেষ্টা, তদন্ত শুরু
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রটোকল দিতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের মুখে পড়েছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

মূলত এডিসি’র ব্যক্তিগত সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে একদল স্বার্থান্বেষী মহলের ফেসবুক ট্রলের শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিএমপি’র রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শওকত আলীর বাড়ি হাতীবান্ধা উপজেলায়। সম্প্রতি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী ওই এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন এডিসি শওকত আলী। অনুষ্ঠান শেষে তার স্কুলজীবনের সহপাঠী শাকিলা খন্দকার মুনা তাকে ও শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান।

বন্ধুর আমন্ত্রণে এডিসি শওকত আলী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সহপাঠীর বাড়িতে যান। সিনিয়র অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মৌখিক নির্দেশনায় সেখানে প্রটোকল দিতে যান হাতীবান্ধা থানার নতুন যোগদানকৃত ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

সহপাঠী শাকিলার চাচা কেএম আমজাদ হোসেন তাজু হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। যদিও তাদের বাড়ি ও সীমানা প্রাচীর সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু একই সড়ক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে একদল লোক সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমারের গাড়িটির ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। প্রচার করা হয়— “আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠক।” অথচ প্রকৃত সত্য হলো, ওসি ওই বাড়ির ভেতরেও প্রবেশ করেননি এবং গাড়িটি ছিল সার্কেলের।

স্থানীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ যোগদানের পর বিট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন এবং মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এতে স্বার্থে আঘাত লাগা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এবং সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফাঁসাতে এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা মোকসেদুর রহমান দুলু বলেন, “শাকিলার বাড়িতে এডিসি শওকত ও শিক্ষার্থীরা খাচ্ছিলেন। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না এবং আওয়ামী লীগ নেতা তাজুকেও দেখা যায়নি। ওসিকে ফাঁসাতে কিছু লোক মিথ্যা রটাচ্ছে।”

স্কুল শিক্ষিকা শাকিলা খন্দকার মুনা বলেন, “আমি আমার বন্ধুকে দাওয়াত দিয়েছি। সেখানে ওসি কেন এসেছেন বা কার প্রটোকলে এসেছেন তা আমাদের জানা নেই। আমার চাচাদের বাড়ি সম্পূর্ণ আলাদা। একটি সাধারণ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ওসির ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

ভুক্তভোগী ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “সিনিয়র অফিসারের মৌখিক নির্দেশনায় আমি সেখানে যাই। এডিসি স্যার বের হওয়ার পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চলে আসি। আমি বাড়ির ভেতরেও যাইনি। ফেসবুকে যে গাড়ির ছবি ছড়ানো হয়েছে সেটি বি-সার্কেল স্যারের।”

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাতীবান্ধা   ওসি   তদন্ত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close