টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া কাচের বোতলে পা কেটে রক্ত ঝরছে স্থানীয় কৃষকদের। চাষাবাদ ও গবাদিপশু চরাতে গিয়ে প্রতিদিনই এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাওরপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক খাবার ও পানীর সাথে কাচের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রেখে যান। এসব কাচ ভেঙে হাওরের কাদামাটিতে মিশে থাকে। খালি পায়ে কিংবা পাতলা স্যান্ডেল পরে হাওরে নামলেই পা কেটে যাচ্ছে কৃষকদের।
তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের কৃষক সান্জবউস্তার বলেন, ‘ধানের জমিতে কাজ করতে গেলে হঠাৎ পায়ে কিছু একটা বিঁধে যায়। দেখি কাচের টুকরা। রক্তে ভিজে গেছে পা। তখন কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলও এসব কাচে আহত হচ্ছে। এতে চিকিৎসা খরচ বাড়ছে এবং কাজের ক্ষতি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন,
‘টাঙ্গুয়ার হাওর একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এখানে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে যদি স্থানীয় মানুষের ক্ষতি হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘হাওরে ভ্রমণকারী পর্যটকদের সচেতন করতে মাইকিং, নোটিশ ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
কেকে/বি