ফুটপাতে বিক্রি হওয়া ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘এসব খাবার প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মেরিডিয়ান অর্গান ধ্বংস করছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।’
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে খাবার বিক্রি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা কাঁচামাল, বিষাক্ত রং ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে। এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণের ফলে কিডনি, লিভার, পাকস্থলীসহ মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
মো. হোসাইন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে কিংবা অসচেতনতার কারণে এসব খাবার গ্রহণ করছে, কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল খাদ্য গ্রহণ ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ভেজালকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’
অবিলম্বে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কঠোর নজরদারি, খাদ্যের মান পরীক্ষা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার, প্রশাসন ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যখাত চরম সংকটে পড়বে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান।
কেকে/বি