মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
অ্যালগরিদম কি সত্যিই ‘ফাঁদ’, নাকি আমাদের আচরণের ‘আয়না’?
ড. শাহ জে মিয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আমাদের বর্তমান আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তাদের অ্যাপ্লিকেশনের পেছনে বিভিন্ন ধরনের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে থাকে। এই অ্যালগরিদমগুলো অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে যে কোনো ব্যবহারকারীর আচরণ, পছন্দ, আগ্রহ এবং নানাবিধ অনুভূতি বা চিন্তার বিশ্লেষণ করে। যা হোক, এসব ইন্টেলিজেন্ট অ্যালগরিদমগুলোকে ইদানীং আমাদের সমাজের সব অবক্ষয়, সহিংসতা আর বিভাজনের মূল হোতা হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। 

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় (দৈনিক যুগান্তর) প্রকাশিত ‘অপরাধ-মানসিকতা তৈরির ভয়ংকর ফাঁদ ‘অ্যালগরিদম’ প্রবন্ধে বলা হচ্ছে, এই ‘অদৃশ্য প্রযুক্তি’ আমাদের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, ফলত: আমাদের সমাজে অনলাইনে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে চলছে। যদিও এই প্রবন্ধটি একটি কোয়ালিটেটিভ গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রতীয়মান, কিন্তু এই অভিযোগের আঙুল তোলার আগে আমাদের একবার এর ভেতরের অন্তর্নিহিত ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবা উচিত। অ্যালগরিদম কি সত্যিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে, নাকি আমরা যেসব কনটেন্ট গোগ্রাসে গ্রহণ করছি, সেগুলোকেই আমাদের সামনে বারবার পরিবেশন করছে?

মূলত, সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যালগরিদমগুলো যা কিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি, এবং এদেরকে কোনোভাবেই ‘মাইন্ড কন্ট্রোলার’ বা মগজ ধোলাইকারী যন্ত্র হিসেবে দেখার উপায় নেই। এটি একটি শক্তিশালী কনটেন্ট ‘বিবর্ধক’ (Amplifier) মাত্র। এর কাজ হলো আমাদের কনটেন্ট ব্রাউসিং বা স্ক্রলিং আচরণকে পাঠ করা এবং সেটাকেই চাহিদাতে রূপান্তরিত করে বহুগুণ বাড়িয়ে আমাদের সামনে ফেরত দেওয়া।

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের ‘নিউজ ফিড’ বা ‘ফর ইউ’ পেজ সবার জন্য এক নয়। আমার মোবাইলের স্ক্রিনে যা ভেসে উঠছে, তা আপনার স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পার্থক্যটা তৈরি হয় আমাদেরই আচরণের ওপর ভিত্তি করে। অ্যালগরিদম এবং এআই আমাদের প্রতিটি ক্লিক, স্ক্রল, ওয়াচ-টাইম (কতক্ষণ ধরে দেখছি) এবং শেয়ার করার প্রবণতা প্রতিনিয়ত বিশ্লেষণ করে থাকে।

যুক্তিটি খুবই সরল, আমি যদি সহিংসতা, মারামারি বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্টে বেশি সময় ব্যয় করি, তবে অ্যালগরিদম ধরে নেবে এটাই আমার আগ্রহের জায়গা। তখন সে আমাকে আরও বেশি সহিংস কনটেন্ট দেখাবে। কারণ, তার মূল উদ্দেশ্য আমাকে অ্যাপটিতে বেশিক্ষণ ধরে রাখা। পক্ষান্তরে, আমি যদি সমাজসেবা, ধর্মীয় আলোচনা, কিংবা শিক্ষামূলক কনটেন্টে সময় দেই, তাহলে অ্যালগরিদম আমাকে সেই জগতের সঙ্গেই যুক্ত রাখবে। সুতরাং, আমার সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে যদি অনবরত নেতিবাচক কনটেন্ট আসতে থাকে, তবে তার দায় অ্যালগরিদমের চেয়ে আমার নিজের আগ্রহ বা ‘এনগেজমেন্ট’-এর ওপরই বেশি বর্তায়, কারণ অ্যালগরিদমগুলো আমারই তৈরি মেটাডাটা নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

অ্যালগরিদমকে একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক আয়না’ বলা যেতে পারে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াও আমাদের সামষ্টিক ও ব্যক্তিগত চরিত্রের প্রতিবিম্ব দেখায়। যদি এমন হতো যে, একজন ব্যবহারকারী নিয়মিত জনহিতকর কাজ, পজিটিভ কন্টেন্ট বা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়াদি খুঁজছেন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া জোর করে তাকে রক্তপাত বা উসকানিমূলক ভিডিও দেখাচ্ছে, একমাত্র তখনই আমরা অ্যালগরিদমকে ‘অপরাধী’ বা ‘ফাঁদ’ বলতে পারতাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অ্যালগরিদম আমাদের জোর করে কিছু পরিবেশন করে  না; বরং আমরা যা দেখতে চাই, সেটার জোগান বাড়ায় মাত্র।

একজন মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রল, গুজব বা বিদ্বেষপূর্ণ ভিডিওতে ‘হা-হা’ রিয়েক্ট দেন কিংবা কমেন্টে তর্কে লিপ্ত হন, তখন তিনি অজান্তেই অ্যালগরিদমকে সিগন্যাল দেন, ‘আমি এটাই চাই’। ফলস্বরূপ, অ্যালগরিদমের প্রযুক্তিগুলো তার সামনে তথাকথিত ‘ইকো-চেম্বার’ তৈরি করে। এই ইকো-চেম্বার অ্যালগরিদম নিজে বানায় না, আমাদের পছন্দের ইট-পাথর (আচরণের বিভিন্ন দিক) দিয়েই সে এটি নির্মাণ করে।

বিশেষজ্ঞরা যদিও বলেছেন যে, মানুষ এখন ‘কনটেন্ট’ বাছাই করতে পারে না, অ্যালগরিদমই তা করে দেয়। এই কথাটি আংশিক সত্য হলেও এর পেছনের চালিকাশক্তি মানুষই। আমাদের মস্তিষ্কের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো ‘নেগেটিভিটি বায়াস’ বা নেতিবাচক সংবাদের প্রতি বেশি আকর্ষণ। আমরা শান্তির চেয়ে সংঘাত দেখতে বেশি পছন্দ করি, যুক্তির চেয়ে আবেগে বেশি সাড়া দেই। অ্যালগরিদম কেবল এই মানবিক দুর্বলতাটিকে ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করেছে।

বলা হয়ে থাকে যে, যদি আমরা অনলাইনে সহিংসতার খবর দেখে উত্তেজিত হই, মব জাস্টিসে অংশ নেই বা গুজবে কান দেই, তবে সেই ব্যর্থতা আমাদের বিচারবোধের, আমাদের শিক্ষার এবং আমাদের মূল্যবোধের। এখানে আমি জোরালোভাবে বলতে চাই যে, অ্যালগরিদমগুলো হচ্ছে কেবল একটি বা সমষ্টিগত প্রযুক্তির মাধ্যম। বন্দুক যেমন নিজে মানুষকে মেরে ফেলতে পারে না, ট্রিগার চাপতে হয় মানুষকেই; তেমনি অ্যালগরিদম নিজে সহিংসতা ছড়ায় না, আমরাই একে ভাইরাল করি সহিংসতা ছড়ানোর উত্তেজনা তৈরি করার জন্য।

প্রযুক্তির এই যুগে অ্যালগরিদমকে কেবল ভয়ের চোখে না দেখে এর অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা এবং ইতিবাচক দিকগুলো অনুধাবন করা এখন এই যুগে একটি সময়ের দাবি। কেন অ্যালগরিদম আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তা বুঝতে হলে বর্তমান বিশ্বের তথ্যের প্রবাহ বা ‘বিগ ডেটা’র দিকে তাকাতে হবে। পৃথিবী এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে বিগ ডেটার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা মানুষের একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সনাতন পদ্ধতির ‘টু ডাইমেনশনাল ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (যেমন সাধারণ এক্সেল বা এসকিউএল টেবিল) দিয়ে বর্তমানের এই বিশাল ও জটিল তথ্যভান্ডার আর পরিচালনা বা সুব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

এখন ডেটা ব্যাংকগুলো এমন ‘ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে যে, যেখানে আলাদা করে প্রথাগত ডেটা স্টোরেজের প্রয়োজন হয় না। বরং অনলাইনের বিভিন্ন ইউআরএল, হ্যাশট্যাগ বা সোর্স থেকে ডেটা পড়ে ডাইনামিক ওয়েতে বা গতিশীলভাবে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যটি আপনার সামনে হাজির করা হয়। ইন্টারনেটের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রতিনিয়ত মিলিয়ন বিলিয়ন ব্যবহারকারী অগণিত ডেটা তৈরি করছেন, যা সামলানোর জন্য এআই অ্যালগরিদম অপরিহার্য।

অনেকে অভিযোগ করেন, অ্যালগরিদম মানুষের অনলাইন অ্যাক্টিভিটি মনিটর করে এবং তাদের পছন্দ বা ‘প্রেফারেন্স’ আগে থেকেই জেনে যায়। কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, এটি কোনো দোষ নয় বরং এটি একটি সঠিক সেবাদানের পূর্বশর্ত। ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মগুলো মিলিয়ন-বিলিয়ন কনটেন্ট থেকে শর্টিং বা বাছাই করে ব্যবহারকারীর সামনে সেই কনটেন্টটিই নিয়ে আসে, যা তার প্রয়োজন বা পছন্দের সঙ্গে সবসমই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে। এটি মানুষের সময় বাঁচায় এবং সার্চিং-এর অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক করে তোলে। অ্যালগরিদমগুলো মূলত আপনার নিজস্ব অনুভূতি, আচরণ এবং চিন্তা-চেতনার সঙ্গে ম্যাচিং করে প্রতিনিয়ত কনটেন্ট প্রপোজ করে, একে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপারিশ ব্যবস্থার অংশ।

এআই অ্যালগরিদম নিয়ে সমালোচনা করার আগে এর বিভিন্ন স্তর বা প্রকারভেদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-কে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়, যা আমাদের জানা প্রয়োজন:

প্রথমেই রয়েছে উইক এআই (Weak AI/Narrow AI) । এটি নির্দিষ্ট কোনো একটি কাজ করতে পারে, যেমন, স্মার্ট স্পিকার বা দাবা খেলার সফটওয়্যার। বর্তমানে আমরা যা ব্যবহার করছি তার বেশিরভাগই এই ক্যাটাগরির। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জেনারেল এআই (General AI), যেটাকে ‘পারপাসফুল এআই’ বলা হয়, যা মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধান করতে এবং সুপারিশ করতে পারে। বর্তমান ব্যবসাগুলো সাধারণত এই জেনারেল এআই বা এর কাছাকাছি প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেই ঝুঁকছে। সর্বোপরি রয়েছে স্ট্রং এআই (Strong AI)। এটি মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতার অধিকারী, যা এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে, বিজ্ঞানীরা এ ধরনের এআই নিয়ে কাজ করে চলেছেন। ব্যবহারের উদ্দেশ্যের দিক থেকে বর্তমানে আমরা নতুন এক ধরনের এআই খুব ব্যবহার করছি, তার নাম জেনারেটিভ এআই (Gen AI)। এটি নতুন কনটেন্ট (টেক্সট, ছবি, অডিও) তৈরি করতে সক্ষম। বর্তমানে এটি খুবই জনপ্রিয়।

এআই বা অ্যালগরিদম নিয়ে আমাদের সমাজে একটি বড় ভয় হলো, এটি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটি হলো, এআই মানুষের সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছে, এবং নতুন জ্ঞানভিত্তিক চাকরির জন্ম দিচ্ছে। এটি মানুষের একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive) কাজগুলো নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে। ফলে মানুষ এখন নিজস্ব চিন্তাভাবনা বা ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ করার জন্য অনেক বেশি সময় পাচ্ছে। এই বাড়তি সময়টুকু কাজে লাগিয়ে মানুষ তাদের সৃজনশীল কাজ এবং সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টাস্কগুলো আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারছে। এর ফলে নতুন নতুন আবিষ্কার বা ‘ডিসকভারি’ সম্ভব হচ্ছে এবং চাকরির বাজার আরও উন্নত ও ইনোভেশনের মাধ্যমে প্রসারিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন সেক্টরকে নতুন করে সাজাচ্ছে বা ‘রিইনভেন্ট’ করছে, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনছে। বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এআই অন্তত ২০০,০০০ নতুন চাকরির বা কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

এআই অ্যালগরিদমগুলো কখনোই মানুষের শিক্ষার সুযোগ বা লার্নিং-এর জায়গা সংকুচিত করে না, বরং তা আরও উন্মুক্ত করে। এটি যেহেতু একটি নতুন প্রযুক্তি এবং এটি এখনো ‘টেস্টিং’ বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, তাই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু আশার কথা হলো, বিশ্বজুড়ে এখন ‘এথিক্যাল এআই’ (Ethical AI) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। বিশ্বের বড় বড় গবেষক গ্রুপ এখন কাজ করছে কীভাবে এআই-কে নিরাপদ করা যায়। শিশু (১৮ বছরের নিচে) থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক, সবার বয়স, সক্ষমতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে যেন অ্যালগরিদম কাজ করে, সেই প্রটোকল তৈরি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিশুদের সুরক্ষা এবং এআই লিটারেসির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা এমন একটি ‘ট্রান্সপারেন্ট’ বা স্বচ্ছ এআই ব্যবস্থা পাব, যা আমাদের সবার জন্য নিরাপদ হবে।

পরিশেষে বলা যায়, এআই অ্যালগরিদম কোনো শত্রু নয়। সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘ভার্চুয়াল যুদ্ধক্ষেত্র’ বা ‘অপরাধ তৈরির কারখানা’ হিসেবে ঢালাওভাবে দাগিয়ে দেওয়ার আগে আমাদের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। আমরা যদি ইতিবাচক কনটেন্টে এনগেজমেন্ট বাড়াই, গঠনমূলক আলোচনায় সময় দেই, তবে অ্যালগরিদম বাধ্য হবে আমাদের সামনে সুস্থধারার কনটেন্ট নিয়ে আসতে।

প্রযুক্তিকে দোষ দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে অ্যালগরিদম বদলানোর চেয়ে জরুরি হলো আমাদের নিজেদের ‘ডিজিটাল আচরণ’ এবং মনোজগৎকে বদলানো। কারণ, দিনশেষে প্রযুক্তি মানুষেরই সৃষ্টি, মানুষ প্রযুক্তির সৃষ্টি নয়। এর নেতিবাচকতার চেয়ে ইতিবাচক দিক অনেক বেশি। আমরা যদি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি এবং ‘নেগেটিভিটি’-কে ‘পজিটিভিটি’-তে রূপান্তর করতে পারি, তবে এআই অ্যালগরিদমগুলো হবে মানবজাতির ইতিহাসের অন্যতম সেরা সহযোগী। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে উপযুক্ত এক্সপার্টিজ প্রয়োগের মাধ্যমে  বিশ্বাসযোগ্য এবং সামাজিক এআই অ্যালগরিদম তৈরি এবং সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য করা। 

লেখক : প্রফেসর অফ বিজনেস এনালিটিক্স এন্ড অ্যাপ্লায়েড এআই,
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  অ্যালগরিদম কি সত্যিই ‘ফাঁদ’   আমাদের আচরণের ‘আয়না’?  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close