শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সংযত রাখতে আইন করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের      নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি      ব্যাংক ঋণে ঝুঁকছে সরকার      সম্ভাবনায় সংকটের ছায়া      চড়া দামে দিশেহারা ক্রেতা      ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর পরিকল্পনা      লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
অপরাধ, ধর্ম ও পরিসংখ্যান : বিভ্রান্তির রাজনীতি
ওয়াসিম ফারুক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:১২ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের আলোকেও বহুল চর্চিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ধারণার একটি চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের তত্ত্বীয় কাঠামোর দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধের সঙ্গে সুপরিকল্পিত ধর্মীয় দলগত সংঘাতের তফাত অত্যন্ত সুস্পষ্ট। 

বাংলাদেশ মূলত শতশত বছর ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য মডেল। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার। এখানে সকল ধর্মের মানুষের একই হাটে-বাজারে কেনাকাটা, একই ঘাটে জলপান কিংবা বন্ধু বা প্রতিবেশীর আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়ানোর যে প্রাকৃতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা কোনো কৃত্রিম রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই।

অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, গ্রাম বা শহরের সাধারণ জায়গা-জমিসংক্রান্ত কোন্দল, ব্যবসায়িক লেনদেনের সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত অপরাধমূলক ঘটনাকেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরাসরি সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অপরাধ এবং গোষ্ঠীগত বা ধর্মীয় সহিংসতার পার্থক্য নিরূপণ করা অত্যন্ত জরুরি। যখন দুজন ব্যক্তির মধ্যে জমিজমা, টাকা-পয়সার লেনদেন বা সামাজিক আধিপত্য নিয়ে ঝগড়া বা সংঘাত হয়, তখন সেখানে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে অর্থনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থ। 

সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্ক্সের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণে বলা যায়, সমাজের বৈষম্য, শ্রেণিগত অবস্থান কিংবা বস্তুগত সম্পদ দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই অধিকাংশ সামাজিক অপরাধের জন্ম দেয়। কার্ল মার্ক্সের সামাজিক তত্ত্বে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শাসক বা সুবিধাভোগী শ্রেণি প্রায়শই তাদের কায়েমি অর্থনৈতিক স্বার্থ বা শ্রেণিগত সংঘাত ঢেকে রাখতে ধর্মের আবরণ ব্যবহার করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে একটি দেওয়ানি বিরোধ তৈরি হয়, তখন অপরাধের পেছনের চালিকাশক্তি থাকে জমি দখলের, লোকসানের বা মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ; কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং সংগঠন এসব সাধারণ আইনি অপরাধকে মনগড়াভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে বাজারজাত করে।

অতিসম্প্রতি, অর্থাৎ গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠন ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এ সম্মেলনে সংগঠনটি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তথাকথিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাদের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে নাকি ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। 

তবে তাদের উল্লিখিত পরিসংখ্যান গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাতে স্থান পাওয়া ঘটনাগুলোর সিংহভাগই মূলত জায়গা-জমির দখলের চেষ্টা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি, নারী নির্যাতন কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটা অপরাধ। অপরাধবিজ্ঞানের সাধারণ সূত্রে, কোনো অপরাধে ভিকটিমের ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, তা অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও সমাজবিজ্ঞানের কোথাও এমন সংজ্ঞায়ন নেই যে, ভিকটিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলেই একটি সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে।

জার্মানির সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব স্মরণ করা যেতে পারে। ভেবার দেখিয়েছিলেন, কীভাবে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় গোষ্ঠীগত পরিচয় বা ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের উপস্থিতি জাহির করতে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করতে সাধারণ অপরাধকে ধর্মীয় সহিংসতার মোড়ক দেওয়ার একটি অপচেষ্টা লক্ষ করা যায়।

একই সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক অর্থপাচার মামলায় অভিযুক্ত প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলাম এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি তোলা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকের অপরাধমূলক রেকর্ডের আলোকে ঘটনাটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হরিদাস চন্দ্র বহুরূপী প্রতারণার মাধ্যমে হুন্ডির সাহায্যে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে এর আগেও এনআই অ্যাক্ট ও প্রতারণার একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দেশ থেকে পলায়নের পর একটি বিশেষ আঞ্চলিক শক্তির মদদে দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার দায়ে এবং সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের হামলায় তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে নিহত হন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরণী ওরফে তাওহীদ ইসলামের মতো আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্টের বিতর্কিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘সনাতনীদের ওপর বাড়াবাড়ি করা হলে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাহায্য নিয়ে আলাদা প্রদেশ করতে বাধ্য হবেন।’ তার এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য বাংলাদেশের সংবিধান, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং স্পষ্টত রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, যা এ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু গোষ্ঠী এসব চিহ্নিত ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি তুলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে অসত্য তথ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করছে। এমনকি এ সুযোগে কোনো কোনো জায়গা থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের মতো নজিরও দেখা গেছে, যা কোনো দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাজ হতে পারে না। অপরাধ আইনশাস্ত্রের সাধারণ নীতি হলো, আইনের চোখে সবাই সমান। অপরাধীর ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় কোনো আইনি সুরক্ষা তৈরি করতে পারে না। দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক বাধ্যবাধকতার নীতি অনুযায়ী, ন্যায়বিচার বজায় রাখার জন্য অপরাধকে তার নিজস্ব ধরন দিয়েই বিচার করতে হবে, অপরাধীর পরিচয় দিয়ে নয়। সুতরাং, চিহ্নিত অপরাধী বা রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে ধর্মীয় মোড়ক দেওয়া সরাসরি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক চেতনার পরিপন্থি।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-উত্তর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। দীর্ঘ দেড় দশকব্যাপী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর যারা পূর্ববর্তী অপকর্মের জন্য জনরোষের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে ধর্মীয় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু উভয় সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরাই রয়েছে। রাজনৈতিক অপরাধে যুক্ত থাকার কারণে যখন কোনো ব্যক্তি সামাজিক ক্ষোভের মুখোমুখি হয়, তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গৃহীত হলেও, সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে সেটিকে কৌশলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে বিশ্বজুড়ে প্রচার করা হচ্ছে। এ দ্বিমুখী নীতি মূলত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসরদের রক্ষার একটি অপকৌশল।

ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ক্ষমতা ও জ্ঞানসংক্রান্ত তত্ত্ব এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ফুকো দেখিয়েছিলেন, কীভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গোষ্ঠী নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি করে সত্যকে তাদের সুবিধাজনক উপায়ে রূপ দেয়। এখানেও একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ন করার পাঁয়তারা চলছে।

উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় সংঘাত তৈরির সূচনা ঘটেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অনুসৃত ‘বিভাজিত করো এবং শাসন করো’ নীতির মাধ্যমে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় নোয়াখালী, ত্রিপুরা বা কলকাতার গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ের মতো ভয়াবহ দাঙ্গাগুলো কোনো সাধারণ মানুষের ইচ্ছার ফসল ছিল না; বরং তা ছিল রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও ধর্মীয় উগ্রবাদের ফসল। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ধর্মকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমানেও তার জের বা অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন কৌশলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তবে উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস থেকে বাংলাদেশের আবহমান সমাজকাঠামো অনেকটাই আলাদা। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল শক্তিই ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা, যেখানে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, বর্তমান বিশ্বে পরোক্ষ যুদ্ধ বা হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটলকে বড় করে দেখানো এবং কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করা। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সামান্য পারিবারিক বিরোধ, জমিসংক্রান্ত ঝগড়া বা আইনি অপরাধগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সেই কৌশলেরই অংশ। এতে করে একদিকে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, অন্যদিকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক দরবারে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দার্শনিক জন রলসের ‘ন্যায়বিচারের তত্ত্ব’ অনুযায়ী, একটি সুষম ও সাম্যভিত্তিক সমাজে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার প্রতিটি নাগরিকের নিরপেক্ষ আইনি সুরক্ষা দিতে হবে এবং গোষ্ঠীগত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা হাজার বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছে সাধারণ মানুষ, তা কোনো বিশেষ সংগঠনের ভিত্তিহীন পরিসংখ্যানে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়েই একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। অপরাধকে ধর্মীয় ট্যাগ না দিয়ে নিছক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক শিক্ষার বিস্তার ঘটানোই পারে সব ধরনের অপপ্রচার ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; সচেতন নাগরিক সমাজকেও মিথ্যা বয়ান চিহ্নিত করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহাসিক সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সোচ্চার হতে হবে।

লেখক : কলামিস্ট


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close